স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, রংপুরের আয়োজনে এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন-৩৬-এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) রংপুর মো. আব্দুল মোতালেব সরকার, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জয়নাল আবেদীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং উপ বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ, রংপুর মো. নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা কেলি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু বৃক্ষমেলা আয়োজন করলেই হবে না, মেলা থেকে নেওয়া প্রতিটি চারা সঠিক জায়গায় রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে। একটি গাছ মানুষের জন্য অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হলে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি। একটি চারা রোপণের পর তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়েই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রকৃত সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। রংপুরকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বৃক্ষমেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রংপুর জেলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীরাও ছিল। পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে প্রচলিত পুরস্কারের পরিবর্তে বিজয়ীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়ায়।
এ ছাড়া বৃক্ষমেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন নার্সারির স্বত্বাধিকারীদের প্রদর্শনী ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নে বিশেষ অবদান এবং উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের জন্য কয়েকজনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৃক্ষমেলা শুধু চারা কেনাবেচা বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নগরায়ণের চাপ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও এর পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে। এ সময় রংপুরের প্রতিটি এলাকায় বেশি করে গাছ লাগানো এবং রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/রংপুর