স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম|
প্রতিটি জ্বালানী তেলে লিটারপ্রতি ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ রংপুরের ব্যবহারকারীরা। মূল্যবৃদ্ধির এই প্রভাবে এরই মধ্যে পড়েছে জায়গায়। এছাড়াও মূল্যবৃদ্ধির পর দেড় ঘন্টাতেই রংপুর বিভাগের পেট্রোল পাম্প মালিকরা চার কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সোমবার ( ২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই পেট্রোল পাম্পগুলোতে আগের মতোই বাইক চালকদের ভির। তবে তারা ক্ষুব্ধ। অসন্তোষ তাদের মাঝে।
নগরীর শাপাল ইউনিক পেট্রোল পাম্পে কথা হয় ঠিকাদার মনজুর মোরশেদের সাথে । তিনি জানান, ‘ জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি সরকরাকে ভোগাবে। কারণ এই সরকার তিনবার জ্বালানির মূল্য বাড়ালো। ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি আমরা স্বাভাবিক নিতাম। কিন্ত একসাথে ২০ টাকা। এটা মানা যায় না। এটার পুরো প্রভাব দ্বিগুন হারে যাতায়াতসহ নিত্যপন্যের ওপর পড়বে।’
একই পাম্পে পেট্রোল নিতে আসা ব্যবসায়ী মাসুদার রহমান মিলন জানালেন. “বহির্বিশ্বে তো এই তেলের সংকটেই পড়ছে সব জায়গায়। সে দেশে আমাদের গরীব দেশে আর কি আর আমরা ভাল থাকব? ওর প্রভাব এখানেও আসছে। এটাই স্বাভাবিক, মেনে নিতে হবে, কিছু করার নাই তো। বাস্তবক্ষেত্রে তাই তো হচ্ছে এইটা।
সালেক পাম্পে তেল নিতে আসা মার্কেটিং কোম্পানীর রি প্রেজেনটেটেটিভ আবু সালেক জানান,”আসলে আমরা তো বেসরকারি চাকরি করি। আমাদের তো আয় সীমিত। হঠাৎ করে এভাবে পেট্রোলের দাম বাড়াতে আমাদের অনেক অসুবিধা হলো। আমরা মার্কেটিং-এ চাকরি করি। সেক্ষেত্রে মনে করেন আমাদের তো সবসময় মোটরসাইকেল ইউজ করতে হয়। হঠাৎ করে এরকম পেট্রোলের দাম বাড়াতে সব পন্য বেশি দিয়ে কেনা শুরু করেছি। পারিবারিকভাবে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত।’
মডার্ন মোড়ের চাঁদনি পেট্রোল পাম্পে তেল নেয়া বাইক চালক পলাশ মোহন্ত জানান, আমি টেওস্ট ওয়াল্ড কোম্পানীতে জব করি। আমাদের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে, আগের তুলনায়। পেট্রোলের মূল্য বাড়াটা আমার জন্য খুব কষ্টসাধ্য হয়ে গেলো।। আমি যে ইনকাম করি, আমার তো আয় বাড়েনি, কিন্তু আমাকে প্রত্যেকটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এখন কিনতে হবে বাড়তি দামে। সরকারের কাছে এটা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরকার যেন তেলের দাম আমাদের ক্রয়সীমার মধ্যেই রাখে।’ নগরীর রহমান পেট্রোল পাম্পের পেট্রোল নেয়া বাইক চালক এরশাদ হোসেন জানান, আমি আছিগোদরেজ হাউসহোল্ড প্রোডাক্ট বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডে। আমাদের এই যে দেশের যে সরকার হুট করে যে এই জিনিসের যে দামটা যে বাড়িয়ে দিয়েছে, আমারা সাধারণ জনগণ খুব ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। সরকারের উচিত ছিল যে অগ্রিম আমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া। দামবদ্ধির কারনে আমরা বিপদে পড়ে গেছি। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লেও আমাদের বেতন বাড়ে নি। প্রতিদিনি ৪০ থেকৈ ৫০ কিলো আপডাউন করি। এইযে তেলে টাকাটা বেশি খরচ হবে সেটা আমাদের কোম্পানী দিবে না। তার ওপর সব জিনিসেরও দাম বাড়বে। আমরা কি করে সংসার চালাবো। ‘
নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের সিটি ফিলিং স্টেশনে আসা গ্রাহক শামীম চৌধুরী জানালেন, “তেলের দাম যে পর্যায়ে আসলো। মানুষ এভাবে চলতে পারে না। মানুষ চাইছিল বিএনপি সরকার আসলে একটু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে এবং তাদের জীবনটা সুন্দর করতে পারবে। এজন্য ফেসিবাদী সরকারকে মানুষ বিদায় করেছে। জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধিতে আমাদের পাবলিকের চলা খুব কষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের জীবন চলা, বাচ্চাকাচ্চার খরচ, সংসার চালানো নিম্ন-মধ্যবিত্তরা এভাবে চলতে পারে না। আমার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এটাই রিকুয়েস্ট, তিনি যেন তেলটা ভর্তুকি দিয়ে একটু তেলটাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ দামে রাখে।’
অনেক জায়গায় দাম নিয়ে বচসা হচ্ছে বিক্রেতাদের সাথে গ্রাহকদের। ইউনিক পেট্রোল পাম্পের বিক্রেতা হাফিজুর রহমান জানান, ‘আমরা খুব বিপদে পড়ে গেছি। বাইকাররা এসে আমাদের সাথেই ঝগড়া করছে। তাদের উত্তর দিতে গিয়ে তেল দিতে দেরি হচ্ছে। অনেক গ্রাহক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আসতেছে। আমাদের এখানে কি করার আাছে। ‘
এদিকে গতকাল (২০ আগস্ট) হঠাৎ দাম বৃদ্ধির খবর আসে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে। সামাজাকি যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে দেয়ার পরপরই রংপুর বিভাগের পেট্রোল পাম্প মালিকরা লাইট অফ করে বিক্রি বন্ধ করে দেন। রাত ১২ টার পর তারা বাড়তি দরে বিক্রি শুরু করেন।
সূত্র জানায়, ওই সময় গড়ে প্রতিটি পাম্পে ৫ হাজারেও বেশি করে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল ছিল। সে হিসেবে প্রতিটি পাম্প মালিকরা রাত ১২ টার পর বিক্রি শুরু করে আগের দেড়ঘন্টাতেই ১ লাখ করে টাকা বাড়তি মুনাফা করে। রংপুর বিভাগে ৩৮০ টিরও বেশি পেট্রোল পাম্প আছে। সে হিসেবে তারা গড়ে প্রায় চার কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নেয় মার্কেট থেকে। আর যাদের এই বেশি মজুদ আছে তারা আরও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরের ইউনিক পেট্রোল পাম্পের মালিক আজিজুল ইসলাম জানান, ‘ আমরা বিক্রি বন্ধ রাখিনি। তবে প্রচুর বাইকার এসেছিল। একারণে বিক্রিতে ঝামেলা হয়েছে। আর অনেকে অনেক টাকার জ্বালানি নেয়ায় সেটা দিতে আমরা হিমশিম খেয়েছি।
কিন্তু সরেজমিনে তেখা গেছে ওই পেট্রোলপাম্পটিতে রাত ১১ টা থেকেই লাইটবন্ধ ছিল। তেল বিক্রি করা হয় নি। এজন্য প্রচুর পরিমানে বাইকারের ভির ছিল সেখানে। একই অবস্থা ছিল প্রায় বিভাগের সব পাম্পেই।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘ আমাদেরও জানা ছিল না হঠাৎ দাম বাড়াবে সরকার। বিভাগের প্রত্যেকটি পাম্পেই রাত ১২ টার পর থেকেই বৃদ্ধি করা নির্ধারিত দামে বিক্রি করেছেন মালিকরা। তবে কেউ যদি বিক্রি বন্ধ রাখে। সে বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখবো। তিনি বলেন, সরকার যদি দামবৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনের সাথে সাথেই সেটা কার্যকর করে তাহলে এই ধরণের অভিযোগ আসবে না।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, ‘ সংগত কারণেই সরকার দাম বাড়িয়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে মালিকরা কোন ধরণের গ্রাহক হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম