সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ শোভাযাত্রা ‘ঘরে ঘরে খবর দে-ভাইভা প্রথার কবর দে, বেশি মার্ক ভাইভায়- দলের লোকে চাকরি পায়,’ শ্লোগানে উত্তাল বেরোবি পীরগাছায় রাতের আঁধারে ৪১০টি পেঁপে গাছ কর্তন, ৮ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি ইসলাম অমুসলিমদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না: রংপুরে চরমোনাই পীর রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: ১৩ দিন পর ফরেনসিক ল্যাবে জব্দকৃত আলামত, নজর এখন ডিএনএ পরীক্ষায় রংপুরে তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আনাস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে চাকুরি করে: পীরগাছা সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দাম্ভিকতার অভিযোগ সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তারেক রহমানের প্ল্যান বাস্তবায়নে তৃণমূল বিএনপি: পীরগঞ্জে সাইফুল ইসলাম রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা বাটুলের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রংপুরে জাতীয় উদ্যোক্তা সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
সকালে সন্তান প্রসব, দুপুরেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন মা

সকালে সন্তান প্রসব, দুপুরেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন মা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||নীলফামারি||বাতায়ন২৪ডটকম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সন্তান প্রসবের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দৃঢ় মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর দুপুরে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন আনাবিউল উম্মি। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

আনাবিউল উম্মির শ্বশুরবাড়ি নীলফামারীর বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে। তিনি শহরের কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

পারিবারিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মানবিক বিভাগের সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা থাকায় সকাল থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আনাবিউল উম্মি। এ সময় হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে ভ্যানে করে সৈয়দপুর মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

সন্তান জন্মের প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুপুর দেড়টার দিকে নবজাতক ও স্বজনদের সঙ্গে সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান তিনি। এরপর দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়েই সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও পরীক্ষা শেষে আনাবিউল উম্মি জানান, তাঁর পরীক্ষা ভালো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে নবজাতককে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। বর্তমানে মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছেন।

আনাবিউল উম্মির বাবা আজহার আলী বলেন, ‘সন্তান প্রসবের পর আমরা পরিবারের সবাই তাকে এবার পরীক্ষা না দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে এক বছর নষ্ট করতে রাজি হয়নি। ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। তার দৃঢ় মানসিক শক্তির কারণেই প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।’

পরীক্ষা চলাকালে নবজাতককে পরীক্ষাকক্ষের বাইরে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করেন এক স্বজন, যাতে আনাবিউল উম্মি নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাহীদ সাহাব বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর আগেই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আমাদের জানান। আমরা তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আনাবিউল উম্মি একজন সচেতন ও পরিশ্রমী ছাত্রী। পরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মা ও নবজাতককে উপহার দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সফলতা এবং নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর জীবন কামনা করি।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com