স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, প্রশাসনের দলীয়করণ, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে, রংপুর জিলা স্কুল মাঠে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদের প্রতি তাদের কোনো আন্তরিকতা ছিল না। আমি রংপুরবাসীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, তারা ক্ষমতার মসনদে গিয়ে একটি স্বৈরাচারী কায়দায় জাতির সঙ্গে মুনাফেকী আর গাদ্দারি করেছে।”
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি কেন গণভোটের রায় কার্যকর করতে চায় না? কারণ গণভোটের রায় কার্যকর করলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারবে না। কারণ গণভোটের রায় কার্যকর করলে বাংলাদেশের প্রশাসনকে দলীয়করণ করতে পারবে না। গণভোটের রায় কার্যকর হলে দুর্নীতি, দলীয় পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করতে পারবে না। গণভোটের রায় কার্যকর হলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস সব, নিত্যপণ্যকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনগণের টাকা, দেশের সম্পদ লুটপাট করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, তাই আজ সব সমস্যার সমাধানের জন্য তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, সারসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ সব সমস্যার একটাই আজ সমাধান,গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। এই রায় কার্যকরের জন্য আজকে ঢাকা থেকে আমরা রংপুরে লং মার্চ করেছি, যদি ৮ দফার পরিবর্তে ১ দফার দিক-নির্দেশনা দিয়ে ঢাকার দিকে লং মার্চ করতে আহ্বান করা হয়, ঢাকামুখী লং মার্চ করতে আপনারা প্রস্তুত থাকবেন। এ সময় তিনি সমাবেশে উপস্থিত সকলকে হাত তুলে সমর্থন জানাতে বলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচি ঘোষিত আট দফা দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার মানিক মিয়া এ্যাভিনিউয়ের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মামুনুল হকের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। তিনি আট দফার পরিবর্তে এক দফার আন্দোলনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ঢাকামুখী লংমার্চের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
লংমার্চের পুর্বঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে ছিল “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।”
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম