স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ভূত বিরোধী দলের ওপর চাপেনি, ভূত চেপেছে বিএনপির ঘাড়ে। সেই ভূত হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা – রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ আট দফা দাবি নিয়ে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভোট দিয়েছিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তিনিও হ্যাঁ তে ভোট দিয়েছিলেন। সেই ভোট দেওয়ার পর যে পার্লামেন্ট হলো, এত বড় জীবন্ত সত্য বলার পর সেই পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন দল ৭০ ভাগ ভোটে হ্যাঁ জয় যুক্ত হলেও সেই গণভোটের রায় বাতিলের জন্য পার্লামেন্টে বিল উত্থাপন করে সেটাকে বাতিল করার চক্রান্ত করছে।”
তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, ভূত বিরোধী দলের ওপর চেপে নাই। ভূত চেপেছে বিএনপির ঘাড়ে। মেজরিটির ভূত চেপেছে বিএনপির ঘাড়ে। আজকে সেই মেজরিটির জোর দেখিয়ে কোরআন-সুন্নাহর ঐশ্বরিক আইন বাতিল করে কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছে। তারা মেজরিটির জোরে ৭০ ভাগ জনগণের রায় বাতিল করে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং গত ছয় মাসে খুন, গুম ও নৃশংসতার ঘটনায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরের শিশুকে অপহরণের পর লাশ উদ্ধারের খবরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমার শিশুরা ধর্ষিতা হবে, শিশুদের খণ্ডিত লাশ পাওয়া যাবে। আর আপনি পার্লামেন্টে এসে সংবিধানের ব্যাখ্যা দেবেন? আপনি কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারেন না?”
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, মানবাধিকার আইন সব বাতিল করছেন। যারা গুম করবে, তারাই তদন্ত করবে। গুমের ব্যাপারে অভিযোগ করে মামলা করতে প্রমাণ করতে না পারলে তার পাঁচ বছরের জেল হবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের অধিকার থাকবে না। তিনি এসব পদক্ষেপকেও “সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত” হিসেবে অভিহিত করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘তারা এখন জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’
তিনি বলেন, এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত কিন্তু শেখ হাসিনাকেও ধরেছিল, কি ধরেছিল না? এবং সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকারে, দাম্ভিকতায়, কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদের রূপ নিয়ে পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সকালে উদ্বোধনী সমাবেশের পর গাড়িবহর গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুরে পৌঁছায়। এসব এলাকায় পথসভা শেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জোটের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
সমাপনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশকে ঘিরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হয়। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও লোকজন অবস্থান নেন এবং নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে প্রভাব পড়ে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম