স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম |
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে ওই ডিএনএ কার, তা এখনো শনাক্ত হয়নি। এ অবস্থায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কার্যালয়ের ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মহানগর ডিবির গাড়িতে করে তাদের ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
রংপুর মহানগর ডিবির প্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “ডিএনএ নমুনা নেওয়ার জন্য আসামিদের ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ শেষে তাদের পুনরায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হবে।”
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফরেনসিক-সংক্রান্ত তথ্যে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিগারেটের ফিল্টার, কামড় দেওয়া শসার অংশবিশেষ ও খেজুরের বিচিতে পুরুষের লালার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএ এখন নিহত গণপতি চক্রবর্তী এবং দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কারও সঙ্গে মিল না থাকলে ঘটনাস্থলে অন্য কারও উপস্থিতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠবে।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের ডিএনএ নমুনাও সিআইডি সংগ্রহ করে রেখেছিল।
গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম আয়ুশ চক্রবর্তী নিহত হন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে ২২ আগস্ট শনিবার রাতের দিকে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বাড়িতে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়।
২৩ আগস্ট রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দুই আসামি।
একই দিন রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন। পরে ২৭ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনেও পুলিশ জানায়, মামলার বিভিন্ন আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আসামিদের জবানবন্দির তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে মামলাটির তদন্ত করছিল কোতোয়ালি থানা। পরে অধিকতর তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যে মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবি মামলাটির তদন্ত করছে।
তদন্তের শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতগুলোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নিহত পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তিনটি আলামতে পুরুষের ডিএনএ শনাক্ত হওয়ার পর এখন সেই নমুনার সঙ্গে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।
সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ডিএনএর মিল পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যুক্ত হতে পারে। আবার ডিএনএ না মিললে ঘটনাস্থলে অন্য কারও উপস্থিতি ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পাবে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় দুই আসামিকে ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বৈজ্ঞানিক তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের আলামত ও আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে তার মিল-অমিল সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম