স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর|| বাতায়ন২৪ডটকম
ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে সরাসরি শারীরিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকেছিলেন এক তরুণ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, কেন্দ্রের ‘ফেস ডিটেকশন’ পয়েন্টেই ধরা পড়ে যান তিনি। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারী, রংপুর ও ঢাকা থেকে উন্মোচিত হয় ১৭ লাখ টাকার চুক্তি করা এক বিশাল জালিয়াতি চক্রের থলের বিড়াল!
শুক্রবার (৩১ জুলাই, ২০২৬) রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে জাল প্রবেশপত্র, টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশট ও একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ আশরাফুল ইসলাম (২১), মূল ভুয়া পরীক্ষার্থী (ঠাকুরগাঁও)। মোঃ তাজমিলুর রহমান (১৯) আশরাফুলের হয়ে প্রক্সি দিতে আসা সহযোগী (দিনাজপুর)। মোঃ বাদশা মাসউদ আলম (৪৮), রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ঠাকুরগাঁও/রংপুর)। মোঃ নুরুল ইসলাম (৪৬) চক্রের অন্যতম মূলহোতা (নীলফামারী)।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিল। বিকেল ৩:৩০ ঘটিকার দিকে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা চালান ১ নম্বর আসামি আশরাফুল। ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে সন্দেহ হলে তাঁকে একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য, আশরাফুল কোনো ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় অংশই নেননি! মূলত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বাদশা মাসউদ আলম ও নুরুল ইসলামের সাথে পরিচয়ের সুবাদে আশরাফুলের বাবার সাথে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে ব্যাংকের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকাও লেনদেন হয়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে আশরাফুলকে জাল প্রবেশপত্র বানিয়ে পাঠানো হয় এবং কেন্দ্রে প্রক্সি দেওয়ার জন্য তাজমিলুরকে সাথে আনা হয়।
আশরাফুলকে গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর শহরের জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বাদশা মাসউদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁর মোবাইল পরীক্ষা করে জালিয়াতি ও বিপুল অঙ্কের লেনদেনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের অপর হোতা নুরুল ইসলামকে।
ডিবি পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীদের ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। শুধু তাই নয়, প্রতারণার অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় (ছদ্মবেশ) ধারণ করে কল দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর ৩/১৩ ধারা এবং পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধ দমনে রংপুর মহানগর ও জেলা পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম