হারুন-অর-রশিদ বাবু, ঠাকুরগাঁও||বাতায়ন২৪ডটকম||
ঠাকুরগাঁও-১ শুন্য আসনের নির্বাচনে ৫৮ থেকে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। তবে ভোটগ্রহণে জাল ভোট, ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকা ও ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে ভোট পড়ার চূড়ান্ত হার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে দুই প্রার্থীর বক্তব্য ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকা এবং কারও কারও পরিচয়পত্র না থাকার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট বইয়ের ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারা, ভোটারদের একাধিক ব্যালট পেপার দেওয়া, জাল ভোট এবং ধানের শীষের প্রতীকসংবলিত গেঞ্জি পরে দলবদ্ধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগ করেন তিনি। খোঁচাবাড়িহাট, বড় খোঁচাবাড়িহাট ও বুলবুল কেন্দ্রের ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
রাজাগাঁও খড়িবাড়ি এলাকায় ডাব প্রতীকের এক প্রার্থীর এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগও করেন দেলাওয়ার হোসেন। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর তোলা অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি বিএনপি প্রার্থীর:
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা একের পর এক অভিযোগ তুলে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, কয়েকটি অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়; বরং একই ধরনের অভিযোগ বিএনপির পক্ষ থেকেও করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ফলাফল যা-ই হোক, তিনি তা মেনে নেবেন। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানোই গণতন্ত্রের মূল কথা।
এর আগে বুধবার রাতে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মির্জা ফয়সল আমীন। সে সময় তিনি দাবি করেন, ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন দেখে প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।
ভোটের হার নিয়ে ভিন্ন তথ্য:
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৫৮ থেকে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেওয়ার আগে ভোট পড়ার সঠিক হার নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ছিল ভিন্ন। কোথাও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, আবার কোনো কেন্দ্রে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। সব কেন্দ্রের তথ্য না পাওয়ায় সামগ্রিক ভোটের হার নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। ভোটগ্রহণ চলাকালে আরও কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথাও জানান জামায়াতের এই প্রার্থী।
১৮৫ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের দাবি:
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে, নির্বাচনের আগের রাতে সরকারি দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠায় নয়জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত ছিল। আসনটিতে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম