স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর ||বাতায়ন২৪ডটকম ||
বর্তমানে দেশে চর দখলের রাজনীতি চলছে, মব সন্ত্রাস নির্মুল করতে না পারলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তক্ত তাউস (সিংহাসন) যেকোন সময় ছিড়ে যাবে, সেদিন আফসোস করে সময় পাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। বলেছেন, দেশে এখন হাহাকার চলছে, দ্রব্যমূল্যের দাম হুহু করে বাড়ছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি দুর্ণীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে কর্মসূচি পালন করতে না দিলে প্রশাসনের বউ-বাচ্চারাও বাড়িতে থাকতে পারবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টেবার) বিকেলে সাড়ে ৪ টায় দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ উত্তর সমাবেশে এই অভিযোগ করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির ও আজমল হোসেন লেবু, যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান নাজিমসহ কেন্দ্রীয় এবং জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাপা কো- চেয়ারম্যান মোস্তফা বলেন, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়াকে বলতে চাই—তারিক জিয়া মহোদয়, আপনি দেশ চালান, এই মব সংস্কৃতিকে বন্ধ রাখতে পারলে আপনার ওই তক্ততাউত একদিন এই মব সন্ত্রাসীরা উল্টে দেবে, সেদিন আর আফসোস করে কোনো সময় পাবেন না। তাই এখনো সময় আছে, এই মব সন্ত্রাসীদের—সে যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক—তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে তাকে জেলহাজতে পুড়ে এই সন্ত্রাসবাদের একটা সমাপ্তি টানেন। তাছাড়া কিন্তু এই দেশ শান্তিতে আসবে না।
দেশে চর দখলের রাজনীতি হচ্ছে দাবি করে মোস্তফা বলেন, ‘ আজকে সাধারণ মানুষ কি কষ্টে আছে। প্রত্যেকটা দ্রব্যমূল্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে। চাদাবাজি হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে। আজকে ডিলারের নামে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। দলীয় লোকজনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সব জায়গায় দলীয় লোককে প্রোভাইড করা হচ্ছে। এইভাবে যদি চলতে থাকে এই চর দখলের রাজনীতি খুব বেশি সময় চলবে না। এই সময়টা খুব কম সময় পেরিয়ে যাবে। তাই আমি মনে করি এখনো আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, এই সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্যের পতন হবে। এই দেশটা একটা শান্তির নীড় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এটা আমরা আশা করতেছি।’
দেশে নৈরাজ্য চলছে দাবি করে মোস্তফা বলেন, ‘ আজকের কোর্ট ক্যাম্পাসে সব মব হচ্ছে, সেখানে বিচারকেরা যে ন্যায়বিচার করবে সে সাহস তো বুকে নাই। পুলিশের থানায় বসে ওসিকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ওসির সামান্য কি দোষ-ত্রুটি আছে, তা না দেখে ওসিকে স্ট্যান্ড রিলিজ।এইভাবে যদি দেশ চলতে থাকে, তাহলে এই দেশটা একদিন নৈরাজ্যের রাজ্য হিসেবে পরিচিত হবে। যার মন যা চায়, তারা সেই কাজটাই করবে।’
রংপুরের প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে মোস্তফা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের আবেদন প্রশাসনের কাছে—রংপুরের প্রশাসনের কাছে, পুলিশ প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সকলের কাছে আমার অনুরোধ, জাতীয় পার্টি কোনো সন্ত্রাস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু জাতীয় পার্টির ন্যায়সংগত কোনো কর্মসূচিকে যদি বাধাগ্রস্ত করতে চান, তাহলে ওই রাজপথেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বুঝিয়ে দেবে তাদের হাতে শক্তি কতটুকু আছে। সেই জনতার শক্তি যদি এক হয়, তাহলে আপনারা কিন্তু এই—এখন তো পানিশমেন্ট ট্রান্সফার নিয়ে যাইতে পারছেন, কিন্তু এমন সময় আসবে যখন আপনি বাড়িতে. থাকতে পারবেন না। .বাড়ি ছেড়ে উ-বাচ্চা নিয়ে পালাইতে দিশা পাবেন না। এই সময় আসবে। আমরা চাই রংপুর একটা শান্তিপূর্ণ জায়গা। এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটাকে কেউ যদি অশান্ত করতে চায়, জাতীয় পার্টি তার প্রতিবাদ করবে।
নেতাকর্মীদের ভোট সেন্টার আড়াইহাত লাঠি নিয়ে পাহারা দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়ে মোস্তফা বলেন, ‘ জাতীয় পার্টির যারা মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মী আছেন তাদেরকে আমাদের প্রত্যেকটা সেন্টার। যদি সামনে ভোট হয় আপনাদের যদি প্রার্থী থাকে সেই প্রার্থীদেরকে ভোটে বিজয়ী করার জন্য মানুষ ভোট দেবে। কিন্তু ভোটটা সংরক্ষণ করার জন্য প্রত্যেকটা ভোট সেন্টার আড়াই হাতের লাঠি দিয়ে পাহারা দিতে হবে। যাতে কোনো সন্ত্রাসীরা কোনো দল দলবাজি করে আপনার ভোটটা ছিনতাই করতে না পারে সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার এখনই সময়। হয়তোবা ভোট অনেক দেরি আছে কিন্তু প্রস্তুতি গ্রহণ আগে থেকেই করতে হবে।’
এরআগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীল সেন্ট্রাল রোড দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়। মিছিলটি নগরীর পায়রা চত্তর, সুপার মার্কেট মোড়, সিভি ভবন, ৩৬ জুলাই চত্বর হয়ে আবারও দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে হামলারী দের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান নেতারা।
এইচআরবি/ বাতায়ন২৪ডটকম