স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
দেশব্যাপী সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুর মহানগর শাখা। কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় নগরীর খামার মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবুল হাসেম বাদল, মহানগর শাখার উপদেষ্টা শাহানত মিয়া ও মুত্তালিব হোসাইন, মহানগর শাখার সহসভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, সাধারণ সম্পাদক ইমরান বাবু এবং মাহিগঞ্জ থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জামেদুল ইসলাম আব্দুল্লাহসহ নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আরও বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন। কৃষিকাজে এমনিতেই লাভের পরিমাণ কম; এর সঙ্গে সারের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হলে কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবুল হাসেম বাদল বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কৃষক যদি ডিলারের কাছে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সার না পান, তাহলে সংকট নেই বলা হলেও এর সুফল কৃষক পাচ্ছেন না। কোথাও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার সংগ্রহের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখতে হবে। কৃষকের উৎপাদন সচল রাখতে সরকারকে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে নজরদারি বাড়াতে হবে।”
মহানগর শাখার উপদেষ্টা শাহানত মিয়া বলেন, “কৃষক দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। অথচ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ সার নিয়ে যদি কৃষককে হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু কৃষকের ওপর নয়, পুরো খাদ্যব্যবস্থার ওপর পড়বে। আমরা চাই, সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক এবং প্রকৃত কৃষক যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি না হন।”
আরেক উপদেষ্টা মুত্তালিব হোসাইন বলেন, “সারের সংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দ্রুত দূর করতে হবে। ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও কঠোরভাবে তদারকি করা জরুরি।”
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল বাতেন বলেন, “কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের দাবি। কৃষক সার চাইবে, অথচ তাকে ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে কিংবা অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হলে কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন নীরব থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে সার সংকটকে কেন্দ্র করে কৃষকদের আন্দোলনে গুলির ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সরকার সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না। কৃষকের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে শুনে দ্রুত সমাধান করতে হবে। অবিলম্বে কৃষক পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সারাদেশের কৃষক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বক্তারা অবিলম্বে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষক পর্যায়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম