হারুন-অর-রশিদ বাবু | রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুর রেঞ্জের নতুন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তিনি আরপিএমপির পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করেন। এ উপলক্ষে একই দিন সকাল ১০:০০ ঘটিকায় আরপিএমপি কমিশনার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বিদায়ী কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা
ক্রাইম অ্যান্ড অপস, তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (সিটিএসবি) মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) সনাতন চক্রবর্তীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিদায়ী বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সহকর্মীদের অকৃত্রিম সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পেশাগত জীবনে হতাশ না হয়ে অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে আইন ও বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার চাপে আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”
তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, পারস্পরিক ঐক্য এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে অপরাধ দমন ও তদন্তে দক্ষতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪খুনের উদাহরণ টেনে বলেন, যেকোনো ঘটনায় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সঠিক বিশ্লেষণ ও নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। পুলিশিংকে একটি ‘ধারাবাহিক শিক্ষার প্রক্রিয়া’ উল্লেখ করে তিনি সদস্যদের নিয়মিত আইন ও সাম্প্রতিক পুলিশিং বিষয়ে অধ্যয়নের পরামর্শ দেন।

কৌশলগত পুলিশিংয়ের বিষয়ে বিদায়ী কমিশনার জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মাদকসহ যেকোনো অপরাধ রুখতে জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।
আরপিএমপিতে তাঁর মেয়াদের স্মৃতিচারণ করে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পুলিশ লাইন স্কুলের মানোন্নয়ন ও টিমওয়ার্ক জোরদার করার ওপর আলোকপাত করেন। নতুন দায়িত্বে রংপুর রেঞ্জ, জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি সকলের সুস্থ ও সফল কর্মজীবন কামনা করেন।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম