সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্র খ্যাত বাবু চৌধুরীর অপসরাণ ও গ্রেফতার দাবি, হিমাগার ভাড়া ৫:২০টাকা করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ রংপুর রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুরে ৩৪ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-ব্যক্তিকে সহায়ক উপকরণ, ১ হাজার পরিবার পেল ৩ হাজার গাছের চারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট ৮ দফা দাবিতে গঙ্গাচড়ার কৃষকদের স্মারকলিপি নেপালে আকর্ষিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭, চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: গনপতি চক্রবর্তির বাসার ছাদে পানি: ঘরের ভিতরে নেই: রংপুরে চাঞ্ছল্যকর ৪ খুন: শ্মশানের পাহাদার আদালতে কি স্বাক্ষ্য দিলেন রংপুরে আলোচিত শিক্ষক পরিবার হত্যা: সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময় সভা মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কারমাইকেল কলেজে ‘নাতে রাসুল সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হত্যা: পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুজনের মানববন্ধন
শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্র খ্যাত বাবু চৌধুরীর অপসরাণ ও গ্রেফতার দাবি, হিমাগার ভাড়া ৫:২০টাকা করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্র খ্যাত বাবু চৌধুরীর অপসরাণ ও গ্রেফতার দাবি, হিমাগার ভাড়া ৫:২০টাকা করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

বাবু চৌধুরীর ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ও আগুন ||

আওয়ামী লীগের দোষর রংপুরে সিন্ডিকেটের হোতা বাবু চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহ

গাছের গুড়ি ও আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ

বাবু চৌধুরী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভাড়া না কমিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম 
শনিবারের মধ্যে হিমাগারে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা করা না হলে রোববার থেকে চাষী ও ব্যবসায়ী রা নিজ দায়িত্বে ৫ টাকা ২০ পয়সা জমা দিয়ে আলু উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছেন রংপুরের আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এসময় সময় হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তফা আজাব চৌধুরী বাবুকে শেখ হাসিনার পোষ্যপুত্র হিসেবে বিদেশে সফরসঙ্গি  ও আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান তারা। এসময় তারা বাবু চৌধুরীর কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে বাবু চৌধুরী বলেছেন সরকারের নির্দেশনা মেনেই মুল্য নিচ্ছেন তারা।

প্রতি কেজি আলু হিমাগার ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা কার্যকর ও কোল্ড এসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরীকে গ্রেফতারের দাবিতে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে আলু চাষী ও ব্যাবসায়িদের বিক্ষোভ এবং বাবু চৌধুরীর ছীবতে জুতা নিক্ষেপ ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার  (২৭ আগস্ট) বেলা বারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত রংপুর-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের নবীগঞ্জে অপু মুন্সি হিমাগারের সামনে, গাছের গুড়ি ফেলে ও আলু ফেলে দিয়ে অবরোধ গড়ে তোলেন কয়েক হাজার আলু চাষী ও ব্যবসায়ি। সেখান থেকে তারা এই দাবি জানান।

অবরোধে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট এর সাথে রংপুরের উপর দিয়ে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ এক ঘন্টা বন্ধ হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ গাড়ি রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়ে। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা।

অবরোধকারীরা গাছের গুড়ি খেলে এবং রাস্তায় আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ  করেন। এসময় বিক্ষোভকারী কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরীর ছবি ও কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ এবং আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। অনেককেই থুথু দিতেও দেখা যায়।

অবরোধে অংশ নিয়েছিলন লালমনিরহাটের রাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ সাজিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘আমি একটা সাধারণ কৃষক। আমি স্টোরে ২৫০ বস্তা আলু রেখেছি। আমরা যখন এই আবাদ করতে যাই, আমাদের এক ২৫ শতক জমির লিজ দিতে হয় ১০ হাজার  টাকা, সার-কীটনাশক কিনতে হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এখন বীজ কেনা লাগে ১০ হাজার টাকার। শ্রমিক, পানি,  সেচ  সার দিতে অনেক খরচ হয়। বস্তা কেরিং দিয়ে স্টোরে প্রবেশ করানো পর্যন্ত খরচ হয়  ২২ থেকে ২৩ টাকা প্রতি কেজি। এখন ভাড়া নিচ্ছে ৭ টাকা-সাড়ে ৭ টাকা। আলুর গায়ে পরে যায় ৩০ টাকা। বাজারে বিক্রি করছি ১৪ টাকা। আমরা কৃষক কীভাবে বাঁচব? আজকে এই এইরকম আমরা কৃষক এত ভোগান্তিত পড়ে গেছি! আমরা কোথায় যাব? আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা কী উপায় পাব? আমরা কোথায় যাব এখন? আমরা এত ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।! আমাদের এখন বাড়ি-ঘর বেচে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ফেসবুকে দেখে আন্দোলনে নেমেছি। ’

প্রতিকীরূপে বাবু বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরীকে, আলু দিয়ে পুতে রাখছে কৃষক ও চাষীরা।

কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর থেকে অবরোধে অংশ নেন মুসলিম উদ্দিন নামের এক কৃষক। তিনি জানান, ‘ আমি স্টোরে ২ হাজার বস্তা আলু রেখেছেন। , হিমাগার মালিকরা আমাদের কাছে নিচ্ছে সাত টাকা। উনাদের ইচ্ছামতো উনারা ভাড়া নিচ্ছে। আমরা কোনো কিছু আন্দোলন করলে ওরা উপর থেকে চাপ দিয়ে আমাদের আন্দোলন ধূলিসাৎ করে দেয়। আমরা এবারকার আন্দোলনে নামছি হয় জীবন দেব আর নয়তো ভাড়া পাঁচ টাকা করবো। ওরা যেহেতু শিল্পপতি, ওদের অনেক টাকার দরকার। বিদেশে বাড়ি করতে হবে। তারপরও আমরা আড়াই টাকার জায়গায় পাঁচ টাকা দিতে চাইছি। তবুও উনারা রাজি না। উনারা সাত টাকাই নিবে। এইজন্যই আমাদের আন্দোলন। আজকের আন্দোলনে দাবি না মানলে আমরা আরও কঠিন, এর চেয়ে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেব। প্রয়োজনবোধে সারা বাংলাদেশ অচল করে দেব।’

অবরোধে অংশ নেয়া পীরগাছার কল্যাণী ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান জানান, ‘ সারা বাংলাদেশে ৪০০ কোল্ডস্টোরের মধ্যে আমাদের রংপুর অঞ্চলে হইলো ৩৯টা কোল্ডস্টোর। তার মধ্যে বাবু চৌধুরী সভাপতি হওয়ার কারণে   রংপুরে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৬৫ কেজির বস্তা ৪৩৫। বাংলাদেশের অন্যান্য সব কোল্ডস্টোরে ৩২০ টাকা, ৩৩০ টাকা ওরা ভাড়া আদায় করতেছে। শুধু আমরা এই বাবু চৌধুরীর কারণে আমরা ভাড়াটা কমাইতে পারতেছি না। যদি আমাদের ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা করা না হয়, আমরা সব কোল্ডস্টোরে তালা লাগায়ে দেবো। সব কোল্ডস্টোরে আমরা তালা লাগায়ে দেবো।’

ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ থাকায় বিপাকে পড়েন যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন। কয়েক কিলোমিটার ব্যাপি যানজট ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা কুড়িগ্রাম মহাসড়কে।

আন্দোলনে অংশ নেয়া রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরি সদস্য রাসেল মিয়া জানান  জানান, ‘ মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরীর এর হাত এত শক্তিশালী, এ এখানে অর্থ প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করে সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইতেছে। সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ও কীভাবে এখনো ৭ টাকা ভাড়া নেয়, এইটা আমরা সরকারকে জানানোর জন্য আমরা এখানে দাঁড়াইছি। বাবু চৌধুরীর নির্দেশে ৭ টাকা, সাড়ে ৭ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। তা আমরা তাকেই তো দায়ী করব। সে  আওয়ামী লীগের দোসর, এসাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিল। আমরা ওর পদত্যাগ দাবি করতেছি এবং রংপুরে তাকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম । ‘

রাসেল মিয়া আরও অভিযোগ করেন ‘ মোস্তফা আজাদ চৌধুরী যখন কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছেন।  এর পর থেকেই ভাড়াটা বাড়ছে।  আগে একটা সিস্টেম স্টোর চালু হওয়ার আগে কৃষক সমাবেশ করে কোল্ড স্টোরের মালিকরা স্টোর ভাড়া নির্ধারণ করত। কিন্তু বাবু চৌধুরী সভাপতি হওয়ার  ফ্যাসিস্ট আমলে উনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে খেয়াল-খুশিমতো কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের দোহাই দিয়ে, কৃষি বিপণনের দোহাই দিয়ে মনগড়া ভাড়া নির্ধারণ করেন।  কৃষক তো অসহায়! কৃষক আলু ঢোকানোর পরে যখন ওই ভাড়া হাকতো। তখন করার কিছু ছিল না। আন্দোলনও করতে দেয় নাই উনি।  সেই ২০ সাল থেকৈ উনি ভাড়া বাড়াচ্ছেন। আজ ২৬ সালে আমরা মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিরবো না।’

রংপুর আলু চাষী ও ব্যবসায়ী আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব রংপুর মোবারক হোসেন মনসুর জানান, ‘ সারাদেশে সরকার ডিসি অফিসের মাধ্যমে যে কমিটি করেছে তাতে ২৫টা জেলার মধ্যে ৩৫০টা কোল্ড স্টোরে সমীক্ষা চালিয়ে গড়ে সর্বোচ্চ ৫ টাকা ২০ পয়সা প্রতি কেজি স্টোর ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু স্টোর মালিকরা নিতেছে ৭ টাকা ২৫ পয়সা। এটা একটা সিন্ডিকেট। স্টোর মালিকদের সিন্ডিকেট। এর সাথে জড়িত কৃষি কৃষি বিপণনের কিছু কর্মকর্তা আছে।  পাশাপাশি স্টোর মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরী । তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শেখ হাসিনার পোষপুত্র হিসেবে বিদেশ সফরের সঙ্গী ছিলেন। উনার মদদে রংপুরকে অস্থিতিশীল করার জন্য, গোটা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য উনি ভাড়া কমাচ্ছেন না। সরকারকে মানছেন না। একারণে দ্রুত তাকে অপসারণ করে গ্রেফতার করা হোক।
মনসুর জানান, রংপুরে এক কেজি আলু উৎপাদন করতে ১৮ টাকা খরচ হয়, বস্তা-টস্তা নিয়া ৪ টাকা। স্টোর পর্যন্ত আনা খরচ পরে ২২ টাকা। ৭ টাকা যদি ভাড়া নেয় ২৯ টাকা। স্টোরে আমরা আলু রাখি মনে করেন ৬৫ কেজি, আলু পাই ৬০ কেজির নিচে। এই যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এখন মাঠে বিক্রি করছি ১৪ টাকা।  এই ক্ষতিগ্রস্ততার দায় কে নিবে? আমরা মনে করি বাবু চৌধুরীকেই এই দায় নিতে হবে।

রংপুর আলু চাষী ও ব্যবসায়ী আন্দোলন কমিটির আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘ আমাদের রংপুরে প্রায় ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু এখানে সংরক্ষণ আছে। কিন্তু কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, যেখানে ভাড়া নেওয়ার কথা ৩ থেকে ৪ টাকা, সেখানে উনি নিতেছে ৭ থেকে সাড় ৭ টাকা কেজি প্রতি। আমরা একটা গড় হিসাব করে দেখেছি শুধু এই অঞ্চল থেকেই উনি প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা আমাদের এই কৃষকের কাছ থেকে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর।। সরকার কি এই বিষয়ে অবগত আছে? সরকারের মুখেই শুনি, সব জায়গায় শুনি সিন্ডিকেট। আসলে সিন্ডিকেটটা কোথায়? এই সিন্ডিকেটটা তো ভাঙতে হবে! সিন্ডিকেট না ভাঙলে তাহলে কৃষকের কোনো উপকারে আসবে না।

তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘ মোস্তফা আজাদ চৌধুরী ইনি হলো আওয়ামী লীগের দোসর। ইনি আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্র হিসেবে বিদেশ ঘুড়েছে। হাসিনার সমস্ত অপকর্মকে বৈধতা দিয়েছে। এ আওয়ামী লীগের আমলে আমাদেরকে উনি রাস্তায় দাঁড়াইতে দেয় নাই, মামলা-হামলা করে আমাদেরকে বাড়ি ছাড়া পর্যন্ত করছে। এই মোস্তফা আজাদ চৌধুরী ২৪ পরবর্তী আন্দোলনের পর এখনো কীভাবে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থাকে। আমরা বারংবার তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাইছি। অথচ এইখানে সরকার কোনো তার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয় নাই। তাহলে কি আমরা বুঝব না যে এই সরকারের মধ্যে কোনো আওয়ামী লীগের কোনো দোসর আছে। বাবু চৌধুরী রংপুরকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকার বলে দেয়ার পরও দাম কমাচ্ছে না।

তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ আমরা সরকারকে সতর্ক করার জন্য অনতিবিলম্বে আমাদের এই দাবিটা দ্রুত মেনে নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।  আর যদি মেনে না নেয়, তাহলে রবিবার ( ৩০ আগস্ট) থেকে আমরা আমাদের নির্ধারিত ৫ টাকা ২০ পয়সা হারে প্রদান করে নিজেরাই আলু স্টোর থেকে বের করে নিয়ে যাব। যদি এতে কোনো অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে এর জন্য সরকার-প্রশাসন দায়ী থাকবে।’

জানা যায় সরকার আলুর সংরক্ষণমূল্য নির্ধারনের জন্য প্রতিটি ডিসি অফিসের মাধ্যমে একটি কমিটি করে। কমিটি রিপোর্ট দেয় কি পরিমান খরচ হয় এলাকা ভেদে। এবং লাভ ধরে গড় ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারন করে দেয়। রংপুরের এই কমিটিতে সবাই স্বাক্ষর করলেও হিমাগার আসোসিয়েশন সই করে নি। বরং তারা ৭ থেকে ৭ টাতা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারন করেছে। এনিয়ে জুন মাস থেকেই বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করছেন চাষী ও ব্যবসায়িরা।

অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

এইচআরবি /বাতায়ন২৪ডটকম 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com