হারুন-অর-রশিদ বাবু |রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

বুধবার দুপুরে নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সুজনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। এ সময় বক্তারা পুলিশের তদন্তে নানা অসংগতি তুলে ধরে মূল পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সুজনের জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু পুলিশের ভূমিকা ও জনবল বৃদ্ধি সত্ত্বেও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রংপুরে থানা ও পুলিশের বিভিন্ন উইং বাড়লেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কাটেনি এবং জনগণের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেতুবন্ধন তৈরি হয়নি। রাষ্ট্র ও নাগরিক পুলিশের কাছ থেকে উইন-উইন গেম নয়, সেবা ও নিরাপত্তা চায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন বা দুইজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি চারজন মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না। মাদকের অজুহাত দিয়ে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি ঘটনাটিতে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মহানগর সভাপতি, এডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট তদন্তের গাফিলতি তুলে ধরে বলেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাদের নেপথ্যে কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না তা বের করা হয়নি। আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং যে ব্যক্তি আগাম তথ্য দিয়েছিল, সে কীভাবে জানল তা-ও খতিয়ে দেখা হয়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুতের সংযোগ কে বিচ্ছিন্ন করল তা তদন্তের দাবি রাখে। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন দুর্বল তদন্তের কারণে আসামিরা ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। তিনি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কমিউনিটি পুলিশিং চালুর জোর দাবি জানান।
সুজনের নারী নেত্রী ও জেলা সদস্য মঞ্জুশ্রী সাহা মিডিয়ায় উঠে আসা ডোম ও ফরেনসিক ডাক্তারের বক্তব্যের গরমিল এবং প্রশাসনের অস্বীকার করার প্রবণতা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নিহত তরুণীর সঙ্গে তাঁর বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি ও জিডি করার বিষয়টি উঠে এসেছিল, যা পুলিশ খতিয়ে দেখেনি। তড়িঘড়ি করে দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গল্প সাজানো হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কারেন্টের লাইন কাটা ও সিসিটিভি ফুটেজ না থাকা প্রমাণ করে ঘটনাটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ঘটনার পর রংপুরের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মানববন্ধনে রংপুর নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজন রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহে আলম এবং প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুকসহ জেলা ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম