পাওয়া যায়নি ধর্ষনের আলামত কিংবা কেমিক্যাল ব্যবহার করে ঝলসানোর ঘটনা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা হত্যার ঘটনায় চারটি লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত। তদন্ত সংস্থা চাইলেই যে কোন মুহূর্তে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল পৌনে ছয়টায় এ প্রতিবেদককে এই তথ্য জানান ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসসিক বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. বাবুল কিশোর কুমার।
ডা. বাবুল বলেন, ‘ময়নাতদন্তের মাইক্রো বায়োলজির রিপোর্টে কোন ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়াও তাদের শরীরে কোন এসিড কিংবা কেমিক্যালও পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আরো জানান, মূলত গরমের কারণে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত হয়েছিল এবং শরীর থেকে চর্বি বেরিয়েছিল। যা তরল হিসেবে অনুমান হয়েছিল।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবুল আরও জানান, দুই নারীর ময়না তদন্তের সময় তাদের যৌনাঙ্গে কিছু পদার্থ পাওয়া গিয়েছিল। সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করে মাইক্রো বায়োলজিতে পরীক্ষা করি। কিন্তু তাতে কোন বীর্যের স্পাম পাওয়া যায়নি। সেগুলো ছিল শরীর থেকে বের হওয়া চর্বি। যখন ময়না তদন্ত করি তখন ডোমকে সেগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেই। কিন্তু ডোম পরীক্ষা হওয়ার আগেই সেগুলোকে বীর্য হিসেবে বিভিন্নজনকে বলেছে। যা সঠিক নয়। পরীক্ষায় বীর্যের কোন স্পাম পাওয়া যায়নি। মুলত শরীরের পচনের কারণে সেটি তাদের যৌনাঙ্গে পাওয়া গিয়েছিল, বীর্য নয়।
চিকিৎসক ডা. বাবুল আরও জানান, এরই মধ্যে আমরা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছি। আমি বিকেল চারটায় প্রতিবেদন তৈরি করে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। আমি অফিসে থাকা পর্যন্ত সেগুলো তদন্ত সংস্থা নিয়ে যায় নি। তবে তারা চাওয়া মাত্রই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গেলো শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে রংপুর মহানগরির মাছুয়া পাড়ার তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের গণমতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কন্যা কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স করা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী, পুত্র রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১ টার পরে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাস নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা খুনের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থীরা। এদিকে মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে খুনের স্বীকার চারজনের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আত্মীয়-স্বজনসহ রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তারাও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এছাড়াও মঙ্গলবার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকরা গনমতি চক্রবর্তিসহ খূনের শিকার চারজনের জন্য স্মরণ সভা ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম