স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মৌয়াগাছ (মাঝাপাড়া) এলাকায় মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সুধাংশু চন্দ্র রায় নামের এক ব্যক্তি অবাধে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহ করে আসছেন। একাধিকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়া এবং ২০২৪ সালে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পরও তিনি নিজের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার মাদকের জাল বদরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে।

২০২৪ সালে স্থানীয়দের হাতে মাদকসহ আটক হওয়ার পর গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বদরগঞ্জ থানা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রেখে মাদক না বেচার মুচলেকা দেন সুধাংশু। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অঙ্গীকা ভেঙে ব্যবসা আরও বিস্তৃত করেন।
গত ১৮ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বুড়িপুকুর হাট এলাকায় মাদক বিক্রির খবর পেয়ে মাঝাপাড়ার বাসিন্দারা সুধাংশুকে আটক করতে গেলে তিনি সহযোগীদের নিয়ে উল্টো গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান।
অপরাধের প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা, সামাজিকভাবে হেয় করা এবং সাম্প্রদায়িক বিরোধের রং দেওয়ার পাঁয়তারা চালান সুধাংশু এবং তার সঙ্গীয় মাদক কারবারিরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর সঙ্গে নিয়মিত অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে তিনি এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী লাভলু চৌধুরী জানান, তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে দোকান করে দেওয়া ও আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি অপরাধের পথ ছাড়েননি। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক সরকার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। পরিচয় যাই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা চাই।”
রংপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু জাফর এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার উভয়ই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তথ্য ও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি শুধু সাময়িক অভিযান নয়, মাদকের মূল উৎস, অর্থের জোগানদাতা এবং পেছনের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম