স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের কমান্ডেন্ট অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘রাষ্ট্র বিধি-নিষেধ আরোপ করবে, এজন্যই তো আমরা রাষ্ট্রকে রেখেছি। তো এখন রাষ্ট্র যদি এই যে আমাদের গত ২৪ এর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যা ঘটেছিল যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এটা কিন্তু রাষ্ট্র করেছে। এটা রাষ্ট্র করেছে বলেই আমরা তাকে বলছি যে রাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।’

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড ও মাসিক আইন ও বিচার পত্রিকার উদ্যোগে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা ও মতবনিমিয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। কর্মশালার উদ্বোধন করেন কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম এ সোহেল আহমেদ মৃধা।
আলোচনায় অংশ নেন আইন ও বিচার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, দিনাজপু্রের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম তালুকদার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর রংপুর বিভাগীয় করেসপনডেন্ট মো: মামুন ইসলাম; রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন আরপিইউজে-এর সভাপতি ও দৈনিক দিনকাল-এর ব্যুরো চীফ মোঃ সালেকুজ্জামান সালেক, আরপিইউজে-এর সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশন-এর ব্যুরো চীফ সরকার মাজহারুল মান্নান,
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক প্রশাসন বাবুল সরকার, দৈনিক সংবাদ সারা বেলা-এর নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান; নাটোর জেলা সভাপতি মোঃ আব্দুস শহীদ, নারী প্রতিনিধি মিসেস রূপবানু আক্তার। জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি (রংপুর বিভাগ) মোঃ আজগার আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালা পরিচালনা করেন রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক আমার দেশের রংপুর ব্যুরো প্রধান বাদশাহ ওসমানী ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম।
এতে অংশ নেন মানবাধিকারকর্মী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি, আইনজীবি, গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অংশিজন।

আলোচনায় অংশ নেন অংশিজনেরা। এসময় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অংশিজনেরা। বিশেষ করে ব্রিটিশ আইন রিফর্ম, সীমান্তসহ সকল ধরনের হত্যা বন্ধ, সীমান্তে সার্স লাইটের কারনে কৃষিক্ষেত নস্ট, তিস্তার পানি চুক্তি, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহসহ সকলের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলা হয়।
এসময় আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করে কীভাবে? যদি হতে পারে রাষ্ট্র চালায় রাজনৈতিক নেতারা, রাজনৈতিক নেতারা যদি কোনো অপকর্ম করে, তাহলে ওটাকেও সাধারণ অপরাধে ধরতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্র যে সংগঠনগুলোকে অন্যের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আইনগত এবং সাংবিধানিকভাবে রেখেছে, এই সব সংগঠনগুলোর মাধ্যমে যদি সে অধিকারগুলো এবং সেটাকে ক্ষুণ্ণ করে, খর্ব করে, তাহলে সেটাই হবে রাষ্ট্রের মানবাধিকারলংঘন। ‘
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দেখাশুনা করবে রাস্ট। যার কারণে রাষ্ট্র কি হত্যা করতে পারে? এই যে আমরা ফাঁসিতে ঝুলাচ্ছি বিচারের মাধ্যমে কোনো মানুষকে, এটা কি হত্যা? এই হত্যাটা রাষ্ট্র করে। কেন রাষ্ট্র করে? যাতে করে অধিকতর হত্যাকে নিবারণ করা যায়।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এখন একজন মানুষের স্বাভাবিক অধিকার রয়েছে, চলার অধিকার, মুক্ত জীবনের অধিকার। তার অধিকার রয়েছে বাকস্বাধীনতা। রাষ্ট্র সেটাকে ক্ষুণ্ণ করে। রাষ্ট্র ক্ষুণ্ণ করে আবার রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে ‘
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে আছে, সব অধিকারই একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করতে পারবে, অন্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। সীমা যখনই লঙ্ঘন করা হবে, তখনই রাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। যার ফলে সভা-সমাবেশের অধিকার সেই সমাবেশ যাতে অন্য অধিকার না ক্ষুণ্ণ করে, সেজন্য সেখানে আবার বাধা সৃষ্টি করে, আরও করেছে।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ আমি আব্দুর রাজ্জাক, আমি একজন মানুষ, আমি একই সাথে একজন পুলিশ অফিসার। আমি যদি কাউকে খুন করি, তাহলে সেটা হবে হত্যাকাণ্ডের অপরাধ। কিন্তু আমি আমার অফিশিয়াল ক্যাপাসিটিতে আমি কয়েকজন ফোর্স পাঠিয়ে দিয়ে সরকারের নির্দেশে যদি কাউকে খুন করি। সেটা হবে রাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘন। তাই এককভাবে নয়, সবাইকে সম্মিলিতভাবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হব।
সমামা/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি