স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম ||
ঘোষণার ৫ দিনের মাথায় জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি টাকা অবমুক্ত করলো স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সোমবার ( ৫ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারি সচিব স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অর্থ অবমুক্তি পত্র রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।
অর্থ ছাড়পত্রটি চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অধীন (কোড নম্বর: ২২১০০০৬০০) ‘বিশেষ বরাদ্দ’ শীর্ষক উপখাত (অর্থনৈতিক কোড: ৪১১১৩১৭) হতে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে ১০৯.০০ লক্ষ (এক কোটি নয় লক্ষ) টাকা অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করছি। এতে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নের জন্য ১ কোটি, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সাইকেল সরবরাহ প্রকল্পে ৫ লাখ এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ উদপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ কোটি করে টাকা ছাড় দেয়া হয়।
ছাড়পত্রে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২ যথাযথভাবে অনুসরণসহ প্রযোজ্য যাবতীয় আর্থিক ও অন্যান্য বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল উত্তোলনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ব্যতীত অন্য কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরিকৃত এ অর্থের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি এ অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত নিয়মাচার ও আর্থিক বিধি-বিধান প্রতিপালন করবেন।
গেলো ৩০ সেপ্টেম্বর শহীদ আবু আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পিতামাতার খোঁজ খবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে আবু সাঈদের বাড়িঘর কবরস্থান উন্নয়নের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসময় তিনি আরও বলেছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান নির্মানের জন্য আরও টাকার প্রয়োজন হলে সেটাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে বরাদ্দ করবেন তিনি।
ঘোষণার ৫ দিনের মাথায় সেই অর্থ ছাড় দেয়ায় খুশি শহীদ আবু সাঈদের পরিবার।
শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘ আমরা চাই সরকার শহীদ আবু সাঈদের একটি স্মৃতি সংরক্ষণাগার করুক। যাতে লোকজন এসে তার বীরত্বগাঁথঅ ইতিহাস জানতে পারে। এখান থেকে নতুন প্রজন্ম প্রেরণা নিতে পারে। ফ্যাসিবাদিরা যেন শিক্ষা নিতে পারে। সরকার ১ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা খুশি।
শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ প্রতিমন্ত্রী এসে ফাউন্ডেশন, ঘড়বাড়ি ও কবরস্থানের জন্য ১ কোটি টাকা দেয়ার কথা বলেছিলেন। আজ শুনলাম, সেই টাকা সরকার জেলা পরিষদকে দিয়েছে। এতে আমরা খুশি। আমরা চাই এটা সঠিকভাবে ব্যয় হোক।’
শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন বলেন, ‘ দেরিতে হলেও বাড়িঘর উন্নয়ন ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাড় দেয়ায় আমরা খুশি। আমি চাই অন্যান্য শহীদ পরিবারগুলোর পাশেও সরকার দাড়াক।’
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মামুনুর রশিদ জানান, ‘ অর্থ ছাড় হযেছে। এখন একটা কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি ডিজাইন এবং স্টিমেট করবে। আমরা চাই জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ঘরবাড়ি কবরস্থান ফাউন্ডেশন যেন ঐতিহাসিক মনুমেন্ট হয়।’
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘ প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ঘোষনা দিয়েছিলেন। ৫ দিনের মাথায় তিনি অর্থ ছাড় দিলেন। এরমাধ্যমে নিশ্চিত হয় জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে এই সরকার কতটা গুরুত্ব দেয়। আমরা চাই শহীদ আবু সাঈদকে ঘিরে সেখানে একটি সর্বজনের মিলন মেলা বসানোর মতো পরিবেশ তৈরি হবে। যেখানে আবু সাঈদের চর্চা হবে। যার মাধ্যমে শহীদ আবু সাঈদ যুগান্তরে বেঁচে থাকবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম