সংবাদ শিরোনাম :
নেপালে আকর্ষিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭, চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: গনপতি চক্রবর্তির বাসার ছাদে পানি: ঘরের ভিতরে নেই: রংপুরে চাঞ্ছল্যকর ৪ খুন: শ্মশানের পাহাদার আদালতে কি স্বাক্ষ্য দিলেন রংপুরে আলোচিত শিক্ষক পরিবার হত্যা: সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময় সভা মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কারমাইকেল কলেজে ‘নাতে রাসুল সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হত্যা: পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুজনের মানববন্ধন রংপুরের পুলিশ কমিশনারকে পদায়নের আদেশ চার খুনের ঘটনার আগেই রংপুরে শিক্ষক পরিবারে ৪ খুন: শ্রাদ্ধ সম্পন্ন রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত: শ্রাদ্ধ সম্পন্ন খাগড়াছড়ি পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: গনপতি চক্রবর্তির বাসার ছাদে পানি: ঘরের ভিতরে নেই:

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: গনপতি চক্রবর্তির বাসার ছাদে পানি: ঘরের ভিতরে নেই:

ভুল করে মটারের সুইচ অন করায় ট্যাংকি ওভার ফ্লো হয়েছিল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনাস্থল গনপতির চক্রবর্তির বাসার ছাদে ও নিচে পানির পাওয়া গেছে। তবে বাসার ঘরের ভিতরে কোন পানির অস্তিত্ব মেলেনি। পাহারাদার পুলিশ বলছে লাইটের সুইচ অন করতে গিয়ে মটারের সুইচ অন হওয়ায় ট্যাংকি উপচিয়ে পড়েছে এসব পানি। আর সেখানে গ্রেফতার সিদ্ধার্থের ভাই ও বাবার অভিযোগ আলামত নস্টের জন্য এটা করা হয়েছে।

বুধবার ( ২৬ আগস্ট) রাত ৯টায় নগরীর মাছুয়াপাড়ার নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার গনপতি চত্রবর্তি জানাজানি হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় পায় গনপতি চক্রবর্তির বাসার ছাদের বিভিন্ন অংশে পানি। যেখানে উচু সেখানে না থাকলেও পুরো ছাদটি ভেজা। দেখা গেছে বাসার নিচ ছাদের পাইপ বেয়েও পড়েছে পানি। এতে বাসার প্রধান ফটকের সামনের একটি অংশে পানি জমাট বেঁধেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থেলে যান মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার(গোয়েন্দা) সনাতনচক্রবর্তির নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম। তিনি গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে বাসার দরজা খোলেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কোন ঘরেই পানির অস্তিত্ব নেই। কোথায় পানির ছিটেফোটা নেই। ক্রাইম সিন যেভাবে রেখেছেন সেভাবেই আছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নরকমের মন্তব্য করেছেন এ ঘটনায় গ্রেফতার আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়া সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাস ও বাবা বিনয় দাস। এসময় পার্থ দাসকে কাঁদতেও দেখা যায়।

পার্থ জানান, ‘আমরা বাড়ির সামনে আড্ডা মারছিলাম। বুধবার (২৬ আগস্ট) সাড়ে ৭টা থেকে হঠাৎ করেই বাড়ির পুলিশ পাহারাদার আশ্বিন দাদা গনপতির বাড়ির ভিতরে গিয়ে সব লাইট অফ দিলো। অনেকক্ষণ পরে ছাদ থেকে পানি পরতে থাকে। উপরে গিয়ে দেখি পুরো ছাদে পানি। বাসার নিচে জমাট বাঁধে। তার অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে দেড়টায় তিনচারজন লোক গনপতির বাসায় ঢুকে রাত আড়াইটায় বের হয়ে যায়। এরমধ্যে একজনের গায়ে লাল শার্ট ছিল। আমার নির্দোষ ভাইকে (সিদ্ধার্থ)কে ফাঁসানোর জন্য জল দিয়ে আলামত নস্ট করলো প্রশাসন।’

সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘আমি বসে আছি গনপতির বাড়ির সামনে। আমার ছেলে বলতেছে বাবা, কি ব্যাপার এরা ভেতরে ঢুকে আমার কিবা কাজটাজ করে আবার বের হয়ে চলে গেছে। আমার ছেলে আমাকে বলতেছে, বাবা এরা বিল্ডিংটা পানি দিয়ে ভাসিয়ে দিলো। এটা কি এরা করতে পারে?

আমরা পাহাড়া দিচ্ছি। কেউ তো জানে না। আমরা প্রতিদিন বাপ ছেলে মিলে বাড়িটা পাহাড়া দিচ্ছি। আমি এমনি একটা ভুল করছি, আমার সন্তানকে ধরে নিয়ে গেছে। সেটা তো আমি মেনে নিতে পারতেছি না। আরও যদি এরকম হয়। জল দিচ্ছে, এটা সেটা দিচ্ছে, ফাসিয়ে দিচ্ছে। আমি বললাম বললাম বাবা. তুমি একটা মিডিয়াতে খবর দাও। তারপর তো আপনারা আসলেন। এই যে যেটা জল টল দিচ্ছে, এটা সেটা করতেছে এটা কি করতে পারবে। এটাতো পুলিশই আছে, পুলিশই দিচ্ছে।

অন্যদিকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য আশ্বিন কুমান জানান, ‘আমি বাহিরের লাইট অন করতে গিয়ে ভুল করে মটারের লাইট অন করায় মটার চালু হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্যাংকি উপচিয়ে পানি ছাদে এবং ছাদের পাইপ দিয়ে নীচে পড়েছে। টের পেয়ে আমি সুইচটা অফ করে দেই। পরে ছাদ থেকে কিছু পানি নিচে পরে যায়। ভেতরে কোন পানি যায়নি। আমরা প্রথম ডিউটিতে কোথায় কোন সুইচ সেটা জানা ছিল না।

এ ব্যপারে রংপুর মহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তি জানান, ‘বাড়িটিকে এখানে এটা একটা ক্রাইম সিন হিসেবে প্রটেক্ট করা আছে। এখানে কোনো আলামত নাই। এই আলামতগুলো আমরা অলরেডি যেটা আমাদের প্রয়োজনীয় সেটা আমরা আমাদের হেফাজতে নিয়ে গেছি। সুতরাং এখানে এই পানি ঢেলে আলামত নষ্ট করার কোনো বিষয় নাই।

সনাতন চক্রবর্তি বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে শুনলাম যে এখানে ছাদে নাকি পানি পড়েছে। তা আমরা দেখলাম, দেখে আমাদের এখানে যে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা আছে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম। তা তাঁরা বললেন যে, এখানে ভুলবশত মোটরটা চালু করা হয়েছিল, তার ফলে উপরের যে ওভারহেড ট্যাঙ্কটা আছে ওটা ওভারফ্লো করেছিল। পরবর্তীতে টের পাওয়ার পরে এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেকারণেই কিছুটা পনি জমান বেধেছিল। ‘

সিদ্ধার্থের ভাইয়ের অভিযোগ সম্পর্কে সনাতন চক্রবর্তি বলেন, ‘ভেতরের ক্রাইম সিন নষ্ট করা হয়েছে বা আলামত নষ্ট করা হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে আমরা আপনাদের গণমাধ্যমকর্মীদের কয়েকজন প্রতিনিধি নিয়ে উপরে যাই। যাওয়ার পরে যেটা দেখেছি সেটা আপনাদের ক্যামেরায় আছে। সেখানে এক ফোটা পানির অস্তিত্ব ছিল না। আমরা দেখলাম যে ক্রাইম সিনের আমরা গত পরশুদিন পরিদর্শনের সময় যেমন দেখে গেছি, এটা তেমনই আছে।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com