স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত জীবন ও জীবিকার কঠিন সংগ্রামে লড়ছেন। প্রমত্তা তিস্তার বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা ২,৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের মূল অবলম্বনই কৃষি। অথচ প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি আর তীব্র খরায় আবাদি জমি ও স্বপ্ন হারিয়ে নিঃস্ব হন অসংখ্য কৃষক। একদিকে নদীভাঙনের ভয়াল থাবা, অন্যদিকে সেচ, কীটনাশক ও জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের দৈনন্দিন জীবন এখন বিপর্যস্ত।
এই চরম বাস্তবতায় চরাঞ্চলের কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে এবং কৃষি উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে সার ডিলার নিয়োগসহ ৮ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি তুলে দেন ভুক্তভোগী চরাঞ্চলের কৃষকরা।
স্মারকলিপি ও উপজেলার ভুক্তভোগী সূত্রে জানাযায়, দুর্গম চরাঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী সার, বীজ ও কীটনাশক সময়মতো পাওয়া যায় না। দূরবর্তী বাজার থেকে কৃষি উপকরণ কিনে আনতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ ও সময় নষ্ট হয়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে বেড়ে যায়।
আরও জানাগেছে অনেক প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষক এখনো কৃষি কার্ড পাননি। ফলে সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছেন।
চরবাসীরা জানান, নদীভাঙনে জমিজমা হারিয়ে কৃষক পরিবারগুলো রাতারাতি গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে পড়ে। দুর্যোগ-পরবর্তী সঠিক তালিকা না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সরকারি সহায়তা সময়মতো পৌঁছায় না।
নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চরাঞ্চলের সুবিধার্থে স্মারক লিপির মাধ্যমে অবিলম্বে নতুন সার ডিলার নিয়োগ দাবী জানান,এছাড়াও চরাঞ্চলের কৃষককে দ্রুত কৃষি কার্ডের আওতায় আনা। সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা। সরকারি সব ধরণের কৃষি ভর্তুকি ও প্রান্তিক কৃষক সহায়তা সরাসরি চরের কৃষকের কাছে পৌঁছানো। বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে তালিকা তৈরি করা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা। কৃষি উপকরণ ও প্রণোদনা বিতরণে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি স্থাপন করা। চরাঞ্চলের কৃষি সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্প গ্রহণ করার দাবী জানান ভুক্তভোগী চরের কৃষক চাষীরা।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনের এই কষ্ট ও উত্থাপিত দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
তাদের স্বারকলিপি যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে আলোচনা করে চরের প্রকৃত কৃষকেরা যাতে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে চরের খেটে খাওয়া মানুষের ঘামঝরা শ্রমের বিকল্প নেই। অথচ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই কৃষকদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না গেলে চরাঞ্চলের কৃষি ও জীবনমান দুটিই মারাত্মক হুমকিতে পড়বে বলে অভিমত ভুক্তভোগীদের।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম