সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ জামায়াত নেতার মাদরাসায় মিলল ১৩ বস্তা সরকারি আমন ধানের বীজ লোডশেডিংয়ের রেকর্ড ভেঙেছে সরকার, ৫ মাসেই সীমাহীন ব্যর্থতা: নাহিদ ১৫ আগস্ট ঘিরে রংপুরে মহানগর পুলিশের বিশেষ মহড়া, নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থান ময়মনসিংহে বাবাকে কোপানোর প্রতিশোধ নিতে যুবককে হত্যা, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রংপুর নগরীতে অটোগ্যারেজ মালিককে হত্যা: এক নারীসহ আটক-৩ রাজধানীতে ২ ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার ৩ যুবকের মরদেহ নির্মানের আড়াই বছর পর যাত্রা শুরু হলো রংপুর বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের তৃণমূল বিএনপি শক্তিশালী করতে রাজশাহী নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশের পেস আক্রমণে মুগ্ধ হার্শা ভোগলে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য এক নাম বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে উঠে আসেন তিনি। সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, তিন দফায় সরকার পরিচালনা, বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দিত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর ছাপ রেখে গেছে।

আজ ১৫ আগস্ট তার ৮২তম জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিন পালন করতে হচ্ছে তার উপস্থিতি ছাড়াই। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশবাসী বিদায় জানায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই আপসহীন নেত্রীকে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকালে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিকালে ঢাকার মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া ও দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শীর্ষে
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রবেশ ছিল অনেকটাই আকস্মিক। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পরের বছর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বানে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আপসহীন নেত্রী
১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাকে সাতবার আটক করা হয়েছিল। ১৯৯০ সালে আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এই আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার প্রথম মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও বৃত্তি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তবে আন্দোলনের মুখে তার সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়। ২৫ মার্চ সংসদে সংশ্লিষ্ট বিল পাস হয় এবং ৩০ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে। ১০ অক্টোবর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীশিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।

বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, মামলা ও কারাবন্দিত্ব
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলাতেও তিনি দণ্ডিত হন। বিএনপি এসব ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করে।

কারাবন্দি অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে থাকেন তিনি। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তি
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্দিত্বের অবসান ঘটে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন তাই কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর জীবনকথা নয়। এটি একজন গৃহবধূর জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসার ইতিহাস; সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইতিহাস; রাষ্ট্র পরিচালনা, বিরোধী রাজনীতি, কারাবন্দিত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস।

এইচ আরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com