হারুন-অর-রশিদ বাবু, রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর নগরীর বাসাবাড়িতে স্থাপন করা প্রিপেইড মিটার বাতিল ও অপসারণ না করলে নেসকোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রংপুর আদালত চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যথাযথ গণশুনানি না করে এবং তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে নেসকো বাসাবাড়িতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ ব্যয় বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে সচল পোস্টপেইড মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরোধিতাও করেন তারা।
অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটারের কারণে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। মিটার রিচার্জ, বিভিন্ন ধরনের চার্জ কর্তন এবং টাকা শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো বিষয়েও গ্রাহকদের ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আদালতের আশ্রয় নিলেও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।
এর আগে গত ২২ জুলাই প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়ে রংপুরে আদালতে একটি মামলা করা হয়। মামলায় নেসকোর রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকসহ ছয় কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব বলেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট আমলের প্রকল্প’’ হিসেবে প্রিপেইড মিটার প্রকল্পকে আখ্যায়িত করে এটি বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পর আগের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাতিল বা পরিবর্তন করা হলেও গ্রাহক হয়রানি ও শোষণের অভিযোগ রয়েছে এমন প্রকল্প কেন বহাল থাকবে, সেটিই এখন প্রশ্ন। তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটার অপসারণ করে নগরীর বাসাবাড়িতে আগের ডিজিটাল/পোস্টপেইড মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তিনি।
নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। সেখান থেকেও কার্যকর সমাধান না এলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি রংপুরে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে নেসকোর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে নেসকোর আওতাধীন এলাকায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের একটি প্রকল্প চলমান ছিল। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ১ জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এবং এর আওতায় রংপুরসহ ১৪ জেলার ২৯টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে নেসকোর নিজস্ব অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকরা ১৬৬০৩ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং অনলাইনেও অভিযোগ দাখিলের সুযোগ রয়েছে। রংপুরে নেসকোর একাধিক বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের স্থানীয় অভিযোগ কেন্দ্রও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আদালতে মামলা করা গ্রাহক ছাড়াও মহানগর নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম