সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ শোভাযাত্রা ‘ঘরে ঘরে খবর দে-ভাইভা প্রথার কবর দে, বেশি মার্ক ভাইভায়- দলের লোকে চাকরি পায়,’ শ্লোগানে উত্তাল বেরোবি পীরগাছায় রাতের আঁধারে ৪১০টি পেঁপে গাছ কর্তন, ৮ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি ইসলাম অমুসলিমদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না: রংপুরে চরমোনাই পীর রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: ১৩ দিন পর ফরেনসিক ল্যাবে জব্দকৃত আলামত, নজর এখন ডিএনএ পরীক্ষায় রংপুরে তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আনাস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে চাকুরি করে: পীরগাছা সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দাম্ভিকতার অভিযোগ সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তারেক রহমানের প্ল্যান বাস্তবায়নে তৃণমূল বিএনপি: পীরগঞ্জে সাইফুল ইসলাম রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা বাটুলের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রংপুরে জাতীয় উদ্যোক্তা সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
সাভারে ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ: পীরগাছা থানা ঘেরাও

সাভারে ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ: পীরগাছা থানা ঘেরাও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম|

একটি জিডির সূত্রে  প্রেমের সম্পর্কে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া ছাত্রী উদ্ধার করতে গিয়ে ছসাভারে অভিযানের সময় পুলিশ ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশীকে ছাদ থেকে ফেলে  হত্যা করেছে-এমন অভিযোগ এনে পীরগাছা থানা ঘেরাও করেছে নিহতের স্বজন ও নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে পীরগাছা থানার ওসি  সাধারণ ডায়েরীকারী মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালককে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করে অভিযানে অংশ নেয়ায়। পরে মোনারুল তাকে চিনতে পারলে পুলিশ ছাদ দিয়ে ফেলে হত্যা করে।

শনিবার ( ৮ আগস্ট)  বিকেল  ৫ টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত নিহত ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশির স্বজন ও এলাকাবাসি পীরগাছা থানা ঘেরাও করে। এসময় তারা প্রধান  ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ওসি সেলিম মালিক, সহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিহতের পিতা জাফর আলী জানান, ‘  উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি  ইউনিয়নের মিন্টু মিয়ার কন্যা আমার ভাগিনা শাহরিয়ার কবির  সৌমিকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে লাপাত্তা হন। ২৩২ জুলাই মিন্টু মিয়া এনিয়ে একটি জিডি করেন। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজপাত্তা লাগাই। কিন্তু খুজে পাইনি। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট)  বৃহস্পতিবার দুপুরে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চারজন কনেস্টবলসহ ৯ জন পুলিশ পোশাক পরিহিত অবস্থায় আমাদের বিপিএটিসির কোয়ার্টারেন যান। সেখানে আমাদের নানাভাবে পুলিশ জানতে চাইলে আমরা বিলি আমরাও খুঁজছি।  এসময় আমরা দেখতে পাই মিন্টু মিয়া  এবং তার শ্যালকও পুলিশের পোশাকে আছে। এসময় আমার পুত্র মোনারুল ইসলাম বকশী ছাদের যান। তখন পুলিশসহ মিন্টু ও তার শ্যালক ছাদে গিয়ে আমার ছেলেকে ধরে ফেলে। আমার ছেলে পুলিশকে চার্জ করে মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালকের গায়ে পুলিশের পোশক করেন। এতে ঘাবড়ে যায় পুলিশ। যেহেতু চিনে ফেলেছে তাই নিজেদের বাঁচাতে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে পুলিশ।

জাফর আলী জানান, ‘ আমি অনেক কস্ট করে ছেলেকে মাস্টার্স পাশ করিয়েছি। আমার ছেলে সাহসী। সে জুলাই যোদ্ধা। পীরগাছা থানার ওসিই মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালককে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করেছে।
নিহতের বোন  এবং সৌমিকের মা শাহিনুর বেগম জানান,   মিন্টু পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। তাহলে তিনি ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক পেলেন কোথায়, তা আমরা জানতে চাই। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কনম চন্দ্রকে গ্রেফতার করলেই বেরিয়ে আসবে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া এলাকাবাসি আওলাদ মন্ডল জানান, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া তাঁকে এবং কিশোরের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বকশি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ সভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর আলীর পুত্র। পিতার চাকরির সুবাধে সাভারের বিপিএটিসির কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক। তিনি বলেন আমি কোন টাকা ফয়সার বিনিময়ে মিন্টু বা কাউকে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করিনি। মিন্টু মিয়া অভিযানে থাকতে পারেন কিএন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন থাকতে পারেন না। মৃতের লোকজন এসেছে। তারা প্রতিবাদ করছে। বিষয়টি তদন্তে দুটি কমিটি হয়েছে। তিনি কোনভাবেই এই ঘটনার সাথে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

ছাত্রদল নেতা মোনারুলের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সাভার থানা-পুলিশ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে। অন্যদিকে রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরেই বিস্তারিত জানা যাবে।’

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিকারপ্রার্থী কাউকে পুলিশের পোশাক দেয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে যেহেতু পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, এই বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভিকটিমের পক্ষ থেকে পীরগাছা থানায় কোন মামলা দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

সমামা/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com