রাজনীতিতে চমক: বিএনপির এমপি পদে ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ সুবর্ণা
বাতায়ন২৪ডটকম | ২০ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত এই তালিকাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সুবর্ণা ঠাকুর—যিনি একসময় আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘোষিত তালিকায় ২০ নম্বরে স্থান পেয়েছেন সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)। তার এই মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পূর্বে তার নাম দলীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজমের স্বাক্ষর রয়েছে।
তবে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুবর্ণা ঠাকুর দাবি করেছেন, তার অনুমতি ছাড়াই আওয়ামী লীগের কমিটিতে নাম দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি কখনোই সক্রিয়ভাবে ওই দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
অন্যদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, সুবর্ণা ঠাকুর পূর্বে দলীয় দায়িত্বে ছিলেন এবং এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী তালিকায় এমন একটি নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে দলবদল ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে, সুবর্ণা ঠাকুরকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাতায়ন২৪ডটকম | আদিল আশরাফিল আবিদ