গাইবান্ধা ১৫০ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ভুল, এসএসসি পরীক্ষার আগে দুশ্চিন্তায়
বাতায়ন২৪ডটকম || গাইবান্ধা প্রতিনিধি || ২০ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে গাইবান্ধার একটি বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক ভুল ধরা পড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। এর আগে ১৯ এপ্রিল প্রবেশপত্র সংগ্রহের সময় ভুলগুলো ধরা পড়ে এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মানবিক বিভাগে ১৪৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৬৭ জনসহ মোট ২১৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রবেশপত্র হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের গুরুতর ভুল রয়েছে—কারো অভিভাবকের নাম ভুল, কারো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর লিঙ্গ ও ছবি গড়মিল, আবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর জায়গায় মানবিক বিভাগের তথ্য যুক্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরদের সম্পৃক্ত না করে বাইরের একটি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করায় এ ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবের কারণেই এত সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমার কারণে ভুল হয়েছে ঠিক আছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীই যেন পরীক্ষার বাইরে না থাকে, সেই বিষয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বোর্ড সংশ্লিষ্টদের। কীভাবে এই ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সব মিলিয়ে এসএসসি পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরা দ্রুত ভুল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।