হারুন-অর-রশিদ বাবু, রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১০ম গ্রেডের চারটি ক্যাটাগরির বকেয়া ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা ভবনের সামনে ‘মাউশি নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে প্রার্থীরা রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মাউশি ৪ হাজার ৩২টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ইতোমধ্যে ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ৪২২টি পদে চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ১০ম গ্রেডের ৪টি ক্যাটাগরির অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল আটকে রাখা হয়েছে।
ঝুলিয়ে রাখা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রদর্শক পদে ৫১৪ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯ জন, গবেষণা সহকারী পদে ২১ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬ জন।
প্রার্থীদের দেয়া তথ্যমতে, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। এরপর একই বছরের ৪ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ভাইভা সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ দুই বছরেরও (২৬ মাস) বেশি সময় পার হলেও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফল প্রকাশে চরম দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে আবেদনের নির্ধারিত বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে, আবার অনেকে শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন।
মাউশি নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, “প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ফলাফল দেয়া হয়নি। লিখিত ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রায় ৭ হাজার প্রার্থী এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। আমরা তো কোনো অন্যায্য দাবি করছি না।”
রসরাজ রায় বলেন, “একই সার্কুলারে অন্য পদের প্রার্থীরা চাকরি করছেন, অথচ ভাইভা দেওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের রেজাল্ট আটকে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দিশাহারা।”
লিটন কুমার বিশ্বাস (মুখপাত্র, মাউশি নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ) বলেন, “ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির (ডিবিসি) বৈঠকে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হলেও এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তা আটকে যায়। পরবর্তীতে শিক্ষা সচিবের পক্ষ থেকে রেজাল্টটি নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষা সচিবের স্পষ্ট অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মাউশির ডিজি খান মহিউদ্দিন সোহেল ব্যক্তিস্বার্থে রেজাল্ট আটকে রেখেছেন। এ অবস্থায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
জোবায়েদ আহমেদ (সভাপতি, মাউশি নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ) বলেন, “একই বিজ্ঞপ্তিতে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ৬১০টি পদে কোনো প্রকার ডিভাইস কেলেঙ্কারি বা অনিয়মের অভিযোগ নেই। আমরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন স্যারের শরণাপন্ন হলে তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন, কিন্তু পরবর্তীতে জানানো হয় যে বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমাদের মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ফুটবলের মতো ঘোরানো হচ্ছে। মহাপরিচালকের এমন স্বেচ্ছাচারিতা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, “চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে আমাদের দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করব।”
এইচআরবি /বাতায়ন২৪ডটকম