স্টাফ করেসপন্ডেন্ট| রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
তদন্ত রিপোর্টের আলোকে হিমাগার ভাড়া সমন্বয় না করে উল্টো চেম্বার অব কমার্সকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হিমাগার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরী চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি। এসময় তারা তার পদত্যাগও দাবি করেন।
মঙ্গলবার ( ১৮ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাহিগঞ্জে সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করে সমিতি। এসময় লিখিত বক্তব্যে আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক তহিদুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত কুমার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন মন্জু, আলু ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া, ফিরোজ রশিদ, রাজু আহম্মেদ, কৃষক সিরাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল মান্নান, রেজাউল করিম, আব্দুস সবুর, রাজু আহমেদ প্রমুখ।
এসময় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট আমরা আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা রংপুর কৃষি বিপণন কার্যলয় ঘেরাও করে হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজি ৫ (পাঁচ) টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করি। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দাবি আদায়ে আল্টিমেটাম দেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় আমাদের সাথে যোগাযোগ করে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় নেয়। আমরা সেই সময় দিয়ে হিমাগার সংরক্ষণ ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে হিমাগার মালিকগন গত ১৬ আগস্ট আমাদের নিয়ম তান্ত্রিক আন্দোলনকে মব বলার অপচেস্টা করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হিমাগার ভাংচুর, এবং আলু বাহির করার মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সরকার কে বিব্রত করতে আলু চাষী, ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষার এই আন্দোলন ২০২০ সাল থেকে চলমান। কিন্তু বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তাফা আজাদ বাবু চৌধুরী সিন্ডিকেট করে নিজেরা লাভবান হওয়ার কারণে আমাদের আন্দোলন সফল হতে দেন নাই। বিভিন্নভাবে বাঁধা প্রদান করেন। মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরী যেদিন থেকে হিমাগার মালিক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি হয়েছেন সেদিন থেকেই প্রতিটি হিমাগার ভাড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট লেগেইে ছিলো আমরা মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরীর দ্রুত পদত্যাগ দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,‘ বাবু চৌধুরী আওয়ামীলীগ ফ্যাসিবাদী সরকার প্রধানের সাথে বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশে সফরসঙ্গি এবং পতিত সরকারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন এবং শেখ হাসিনার পারপাস সার্ভ করেছেন। এখন বাবু চৌধুরী নতুন সরকারকে বিভ্রান্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রসাশনকে ব্যবহার করছেন। অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হিমাগার ভাড়ার সুপারিশ কমিটি প্রতি কেজি আলুর ভাড়ার জন্য ২.৩৭ (দুই টাকা সাইত্রিশ পয়সা) থেকে ৩.৪৩ (তিন টাকা তেতাল্লিশ পয়সা) পর্যন্ত হিমাগার ভাড়া প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু হিমাগার মালিকগন তাতে স্বাক্ষর করেন নাই। রংপুরের হিমাগারগুলো ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৭ টা পর্যন্ত আদায় করছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু চাষী ব্যাবসায়িরা। আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে গিয়ে হিমাগার মালিকরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হিামগার ভাড়া সমন্বয়ের জন্য কৃষি মন্ত্রনালয় এবং কৃষি বিপণন আমাদের সাথে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। এর পরেও যদি হিমাগার ভাড়া কমানো না হয় তাহলে আগামী ২৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হিমাগার মালিকগন চাষীদের মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে কোনঠাসা করার অপচেস্টা করছে। সরকার যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
সমামা/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি