স্টার করেসপন্ডেন্ট |রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম
‘তুমি কে আমি কে কালো ছেলে কালো ছেলে, কে বলেছে কে বলেছে প্রশাসন প্রশাসন’ এই শ্লোগানে রংপুর এসপি অফিস ঘেরাও করলো রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের ক্লাসের শিক্ষার্থীরা। এক শিফটে বিদ্যালয় চালু এবং ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়মের প্রতিবাদে এসব শ্লোগান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে তারা। তবে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ভর্তিতে কোন অনিয়ম হচ্ছে না, নিতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এক শিফটে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ৩ টায় অস্টম ও নবম শ্রেনীর কয়েকশো শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করেন। এসময় ‘তুমি কে আমি কে কালো ছেলে কালো ছেলে, কে বলেছে কে বলেছে প্রশাসন প্রশাসন, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা, চলবে না চলবে না, একশন একশন ডাইরেক্ট একশন, উই ওয়ান্ট জাস্টিসসহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
শিক্ষার্থীদের ঘেরাওয়ের মাঝে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুশান্ত চন্দ্র এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেস্টা করেন। মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন বিষয়টি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবো। তোমরা অডিটোরিয়ামে যাও। এসময় শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অনঢ় থাকেন। এক পর্যায়ে সেখানে ছুটে আসেন স্কুলটির প্রশাসনিক ও স্কুল শাখার উপাধ্যক্ষ। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেস্টা করেও ব্যর্থ হন।
এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘আমরা অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার আগে স্যারদের জানিয়ে দেই যে শিফট প্রথা করা হয়েছে তা আমরা মানতেছি না। কারণ ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে দ্বিতীয় শিফট শুরু হওয়ার কারণে আমাদের পড়ালেখা হচ্ছে না। দুপুরে এসে ক্লাস করা এবং সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত স্কুলে থেকে আবার বাড়িতে গিয়ে পড়া শুনা করা। কোচিং করা। প্রাইভেট পড়া আমাদের জন্য খুবই কস্টকর। আমরা ঠিকমতো ক্লাস ও পড়ালেখা করতে পারছি না। একারণে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা আমাদের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ , ‘ আমাদের এই দাবি নিয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষ এডিশনাল এসপি জয়নাল আবেদীন স্যার আমাদের সাথে অডিটোরিয়ামে একমাস আগে বসেছিলেন। আমরা যখন তাকে এসব বলি তখন তিনি আমাদের কালো ছেলে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। এবং আমাদের ৫০৬ জনকে টিসি দেয়ারও হুমকি দেন। তারপরও আমরা আমাদের দাবিতে অনঢ় থাকি। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের একমাস সময় নিয়েছিল। কিন্তু একমাস পার হলেও আমাদেরকে এব্যপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হয় নি। আমাদের সমাবেশে বলা হলো বিল্ডিং সটেজের কারণে এক শিফট করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ১৩ দিন পর আমরা দেখলাম আবারও ১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নোটিশ দিয়েছে। এবং পরীক্ষা নিয়ে ফলাফল টাংগিয়ে দিয়েছে। যদি অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর কারণে একশিফট করা না যায়, তাহলে আবারও কেন বছরের অস্টম মাসে এসে ভর্তি করানো হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা স্কুলে অধ্যক্ষের কাছে জানতে গেছি। তিনি কোন সমাধান না দেয়ার কারণে আমরা এসপি স্যারের অফিস ঘেরাও করেছি।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, লাখ লাখ টাকা ঘুষের মাধ্যমে এখানে ভর্তি করানো হচ্ছে। পুলিশ লাইন্সকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা হয়েছে। এক শিফটে ক্লাস না করার প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
কালো ছেলে বলা ও টিসি দেয়া্ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, ‘ ওরা আমার সন্তান। এধরণের কোন কথা আমি আমার সন্তানদের বলিনি। আমরা ওদের দাবিটাকে এড্রেস করেছি। কিভাবে সমাধান করা যায় সেটাই ভাবছি।’
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, ‘ স্কুলের তিনটি বিল্ডিংয়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর একসাথে ক্লাস নেয়া সম্ভব না হওয়ায় দুই শিফট করা হয়েছে। কারন আমাদের এখানে ৮ হাজার শিক্ষার্থী। সকালের শিফটে মেয়ে এবং দুপুরের শিফটে ছেলেদের। নতুন বিল্ডিং না হওয়া পর্যন্ত শিফট পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ‘
পুলিশ সুপার বলেন, ‘ আমাদের ভর্তি পরীক্ষায় কোন অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয় না। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভর্তি হন শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি শাখায় বেশ কিছু আসন শুন্য হওয়ায় সেসব শাখায় আবারও পরীক্ষা নিয়ে ভর্তির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।’
সমামা/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচ আরবি