স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর|| বাতায়ন২৪ডটকম
প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কেমিক্যাল দিয়ে মুছে ফেলে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অপরাধে “মেসার্স রংপুর চাউল ঘর” নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় রংপুর নগরীর প্রাইম হাসপাতাল মোড় এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সুগন্ধি চালের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিত পর্যবেক্ষণ করছিল অধিদপ্তর। নজরদারির একপর্যায়ে প্রাইম হাসপাতাল মোড়ের “মেসার্স রংপুর চাউল ঘর”-এ কারসাজির প্রমাণ মেলে।
তিনি আরও বলেন, “উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মোড়ানো প্যাকেটের গায়ে যে উৎপাদন তারিখ ও খুচরা মূল্য (এমআরপি) লিখে দিয়েছিল, উক্ত প্রতিষ্ঠানটি তা ‘ইনক রিমুভার’ (কালি মোছার রাসায়নিক) দিয়ে মুছে ফেলছিল। এরপর সেখানে নতুন করে মনগড়া বেশি দাম বসিয়ে বিক্রি করা হতো। আমরা অভিযান পরিচালনাকালে ওই অসাধু কাজে ব্যবহৃত ইনক রিমুভার হাতেনাতে উদ্ধার করেছি।”

চালের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির একটি হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “একই সুগন্ধি চাল গত মাসের ৩০ তারিখে বিক্রি হয়েছে ১৪৮ টাকা কেজিতে। পরদিনই (৩১ তারিখ) তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৮ টাকায়। আর তার মাত্র ৪-৫ দিন পরেই সেই চাল বিক্রি করা হচ্ছিল ১৭০ টাকা কেজি দরে। এই যে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ক্রমাগত এবং কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি -তা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। ভোক্তা স্বার্থক্ষুণ্ন করার অপরাধেই এই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
উপ-পরিচালক আরও জানান, অসাধু এই কারসাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং কেনা দামের সাথে একটি যৌক্তিক মুনাফা যোগ করে সাধারণ নিয়মে পণ্য বিক্রির জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের ভেজাল ও কারসাজি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করে মেসার্স রংপুর চাউল ঘরের মালিক মাসুদ বলেন, “আমরা মোকাম ও বাজারের দরদামের ওপর ভিত্তি করেই মালামাল বিক্রি করি। মোকাম থেকে আমাদের যেভাবে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, আমরা সেভাবেই বিক্রি করছিলাম। ইনক রিমুভার ব্যবহারের বিষয়টি ঠিক হয়নি। অভিযানের পর আমরা জরিমানার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি এবং ভবিষ্যতে আর এমনটি হবে না।”
স্থানীয় সাধারণ ভোক্তারা অধিদপ্তরের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য ঠেকাতে নিয়মিত এমন তদারকি অত্যন্ত জরুরি।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি