সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে চাঞ্চল্যকর ৪খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে যা জানালেন – পুলিশ কমিশনার মিঠাপুকুরে নৈশকালীন প্রীতি ইনডোর ফুটবলে, পায়রাবন্দকে হারিয়ে কাফ্রিখাল বিজয়ী শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্র খ্যাত বাবু চৌধুরীর অপসরাণ ও গ্রেফতার দাবি, হিমাগার ভাড়া ৫:২০টাকা করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ রংপুর রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুরে ৩৪ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-ব্যক্তিকে সহায়ক উপকরণ, ১ হাজার পরিবার পেল ৩ হাজার গাছের চারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট ৮ দফা দাবিতে গঙ্গাচড়ার কৃষকদের স্মারকলিপি নেপালে আকর্ষিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭, চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: গনপতি চক্রবর্তির বাসার ছাদে পানি: ঘরের ভিতরে নেই: রংপুরে চাঞ্ছল্যকর ৪ খুন: শ্মশানের পাহাদার আদালতে কি স্বাক্ষ্য দিলেন রংপুরে আলোচিত শিক্ষক পরিবার হত্যা: সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময় সভা
গাইবান্ধায় জুলাই শহীদদের কবর পাকাকরণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদদের কবর পাকাকরণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গাইবান্ধার ছয় শহীদের কবর পাকাকরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন আগে কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কবরের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা | ১৬ জুন ২০২৬

সোমবার (১৫ জুন) গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছয় শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ শাকিনুরের স্ত্রী শারমিন আক্তার, শহীদ আরিফুলের স্ত্রী হালিজা বেগম, শহীদ সুজনের স্ত্রী লাইজু বেগম, শহীদ নাজমুলের মা গোলেভান, শহীদ জুয়েল রানার মা জমিলা বেগম এবং শহীদ সজলের বাবা খলিলুর রহমান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহিনা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদদের কবর পাকাকরণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয় গাইবান্ধা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। লিখিত বক্তব্যে শাহিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন আগে কবর পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও তা আজও সম্পন্ন হয়নি। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে জেলা পরিষদ-সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তারা জানতে পারেন, কবর নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পুরো বিল ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লাকে অবহিত করা হলেও আশ্বাসের বাইরে বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন’ করা হচ্ছে, যা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ সময় গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কিছু নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। শহীদ পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এছাড়া গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হলেও এতে কারা রয়েছেন, তাদের ভূমিকা কী— সে বিষয়ে শহীদ পরিবারগুলোকে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এদিকে, একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই বিষয়ে পোস্ট করে অভিযোগ করেন শাহিনা বেগম। সেখানে তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলসহ ছয় শহীদের কবর নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, তিনি কোনো ঠিকাদারি কাজ নেননি। নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করতে গেলে শহীদ সজলের মা ভিন্ন ডিজাইনের দাবি করেন, যা বরাদ্দের আওতার বাইরে। কবর পাকাকরণের বরাদ্দকৃত অর্থ এখনো ব্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশে এক হাজার চার শতাধিক মানুষ শহীদ এবং প্রায় ২ হাজার ২০০ জন আহত হন।

বাতয়ন২৪ডটকম ~ খাইরুল

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com