সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঘাঘট নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই- ফেন্সি এমপি রংপুরে জ্বালানি কম দেওয়ায় ওমর ফিলিং স্টেশনকে এক লাখ টাকা জরিমানা সাভারে ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ: পীরগাছা থানা ঘেরাও জুলাই বীরদের কর্মসংস্থানে প্রধানমন্ত্রীর রিকশা ও অটোরিকশা উপহার জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার নেপথ্যে একটি চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী পুলিশের পোশাকে অভিযানে বাদী, ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ তনু হত্যা মামলার জামিন বাতিলের পর সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর গ্রেফতার  রংপুর লাইনচ্যুত বুড়িমারি লোকাল ট্রেন: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন “ভারত যদি বন্ধু হও হাসিনাকে ফেরত দাও” ছাত্রদলের স্লোগানে উত্তাল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, আন্তর্জাতিক ।।বাতায়ন২৪ডটকম।।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় লিখেছে। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং ‘গাজায় নীরবতার উপর সত্যের বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরাইলি নীতির সমালোচনা করায় তাকে ইহুদি-বিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ভোটাররা বুঝেছেন, গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো বিদ্বেষ নয়, বরং ন্যায়বিচারের আহ্বান। মামদানি বলেছেন, “ন্যায়বিচার কখনো নির্বাচনী হতে পারে না।”

হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জিয়াদ মোতালা আল জাজিরায় এক মন্তব্যে বলেন, “মামদানিকে বেছে নিয়ে ভোটাররা, দাতাদের আনুগত্যের উপর জনস্বার্থ এবং গাজায় নীরবতার উপর সত্যকে সমর্থন করেছেন।”

মামদানি তার প্রচারণায় সাহসিকতার সঙ্গে প্রচলিত রাজনীতির দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন। তিনি শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান দিতে চেয়েছেন। কে এই শহরে টিকে থাকতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে তার নীতিনিষ্ঠ স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। তিনি জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়াটেদের অধিকার, সর্বজনীন শিশু যত্ন ও বিনামূল্যে গণপরিবহন পাশাপাশি, ধনীদের ন্যায্য কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বার্থে মুদি দোকানের সরকারি মালিকানা প্রস্তাব করেছেন।

মামদানির বিরোধীরা তাকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করলেও, ভোটাররা এই পুরনো ভয় দেখানোর কৌশল প্রত্যাখ্যান করেছেন। মামদানি ট্রাম্পের মতো বিভাজনের রাজনীতির নয়, বরং জনসাধারণের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

নিউইয়র্কের তরুণ ভোটাররা এবার একটু অন্যরকম ছিলেন। তারা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গাজার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। আর তাই ‘ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ এই তত্ত্বকে তারা গ্রহণ করেননি। এমনকি অনেকেই প্রকাশ্যে ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলতেও ভয় পাননি।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতাও ভোটারদেরকে চরম হতাশ করেছে। সিনেটর চাক শুমার ও প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থন দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ ‍ছিল দাতা শ্রেণীর প্রতি নির্ভরতার প্রতিফলন।

জোহরান মামদানির বিজয় আজ এক প্রজন্মের ক্ষোভ ও আশার প্রতীক। তরুণরা আর ‘ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ হলেও মেনে নিতে হবে’ এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তারা এমন রাজনীতি চায় যা সত্য বলে এবং তার ওপর কাজ করে।

বাতায়ন২৪ডটকম।।মেমোহি।।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com