হারুন-অর-রশিদ বাবু||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান রয়েছে নীলফামারী জেলায়, ১২টি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান রয়েছে গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে, দুটি করে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলাফলে দেখা যায়, সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ৪৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে নীলফামারীতে ১২টি, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৯টি করে, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে ৬টি করে, রংপুরে ৩টি এবং গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে ২টি করে প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শূন্য পাস করা ৪৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি। এ ছাড়া ১২টি প্রতিষ্ঠানে দুজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হননি। তিন থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে অংশ নেওয়া এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি। তুলনামূলক বড় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ থেকে ৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কেউ পাস করতে পারেননি।
নীলফামারি
জেলাটিতে শতভাগ অকৃতকার্য ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জের ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৫০১৩) ও নয়নখাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৪৯৯১), নীলফামারী সদরের আদর্শ কলেজ (EIIN: ১২৫১৯৩), পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৫০৬৮), তারানীবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৫০৮৭) ও লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজ (EIIN: ১৩৮৭৭২), ডোমারের জমিরবাড়ী মহিলা মহাবিদ্যালয় (EIIN: ১৩৯৬৯৮) ও বন্দুকড়া নিমোজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৪৮৪৭), জলঢাকার সমির উদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৫২১৮), ডিমলার আদাবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৪৭৭৮), জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১৩৬৫০৭) ও গয়খাড়ীবাড়ী উইমেন্স কলেজ (EIIN: ১৩৭৭৩৭)।
কুড়িগ্রাম
জেলার ৯টি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রৌমারীর চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ (EIIN: ১৩৭৭৪৬), নাগেশ্বরীর নাগেশ্বরী মডেল কলেজ (EIIN: ১২২৪৫৭), কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৩৫৭) ও চিলাখানা মডেল কলেজ (EIIN: ১২২৪৬০), উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পোরো গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৭৫৬), চিলমারীর দক্ষিণ খৌরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২১৬৪) এবং রাজারহাটের পাঙারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৪৬৪), সিঙ্গার ডাবড়ীহাট কলেজ (EIIN: ১২২৫৩৭) ও সিঙ্গার ডাবড়ীহাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৩৩৮)।
ঠাকুরগাঁও
জেলার শতভাগ অকৃতকার্য ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বালিয়াডাঙ্গীর হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৮৬৯৯), মোরোল হাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৮৭০০) ও রত্নাই বাগুলাবাড়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৮৬৯৩), ঠাকুরগাঁও সদরের কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৯১৭৫) ও সালারদর উইমেন্স কলেজ (EIIN: ১৩১৯৯৫), রানীশংকৈলের ধুলঝাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোগড় কলেজ (EIIN: ১৩১৯৪০) ও রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৮৯৮১) এবং পীরগঞ্জের একতিয়ারপুর শহীদ সালাহউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৮৮৬১)।
লালমনিরহাট:
জেলার ৬টি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাতীবান্ধার হাতীবান্ধা মডেল কলেজ (EIIN: ১২২৮২৮) ও আমিনুর রহমান কলেজ (EIIN: ১৩৬৯৩১), কালীগঞ্জের সোনাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৮৪৫), দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৮৪৯) ও দুহুলী এস. সি. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৮৪৪) এবং আদিতমারীর গন্ধমারুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২২৭২৫)।
দিনাজপুর:
জেলার ৬টি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বীরগঞ্জের কবিরাজ হাট কলেজ (EIIN: ১৩৫৪১৬) ও সোনকা আদর্শ কলেজ (EIIN: ১৩৭৮০৭), ফুলবাড়ীর উত্তর লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২০৪৫৬), বিরামপুরের বেপারীটোলা আদর্শ কলেজ (EIIN: ১২০০১৯) এবং হাকিমপুরের পৌষগাড়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২০৫০৫) ও বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২০৫০৮)।
রংপুর:
জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পীরগঞ্জের কাদিরাবাদ উইমেন্স কলেজ (EIIN: ১৩৫৩৮৪) ও আমদপুর কলেজ (EIIN: ১২৭৯৪৬) এবং পীরগাছার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৭৬৮৮)।
পঞ্চগড়:
জেলার দুটি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান হলো বোদার বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (EIIN: ১২৫৮৭৭) এবং তেঁতুলিয়ার আলহাজ তমিজ উদ্দিন কলেজ (EIIN: ১২৬১৯১)।
গাইবান্ধা:
জেলার দুটি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান হলো পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজ (EIIN: ১৩৮০১২) এবং সাঘাটার জুম্মারবাড়ী মহিলা কলেজ (EIIN: ১৩৬৯০৯)।
এদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও এবার অবনতি দেখা গেছে। বোর্ডে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এবার বোর্ডে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ২৬০ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৩০৭ জন।
গত বছর এই বোর্ডে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৩টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ২০টি, ২০২৩ সালে ১৬টি, ২০২২ সালে ১৩টি, ২০২১ সালে ২টি এবং ২০২০ সালে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না।
শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে পার্শ্ববর্তী কলেজের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাসের চিন্তা করছে সরকার। এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক কলেজ গড়ে উঠেছে। সেগুলো রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সীমিত পরিসরে কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম