সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে বিশ্ব মান দিবসের আলোচনায় বক্তারা: পন্যসহ জীবনের সবক্ষেত্রেই মান বজায় রাখা জরুরি গঙ্গাচড়ায় সারের ডিলারশিপে শুধু বিএনপি নেতার আত্নীয়, পীরগাছায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ সার ডিলার নিয়োগে রাঙ্গার স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে বিএনপি নেতার পোস্ট ভাইরাল পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্মানাধীন ভবনের বারান্নার ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত : আহত ৩ মব সন্ত্রাস নির্মুল করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীর তত্য তাউস যেকোন সময় উল্টে যাবে: জাপা কো-চেয়ারম্যান মোস্তফা পাটগ্রামে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৩,৯২৪ পিস ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, গ্রেপ্তার ২ মিঠাপুকুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী অপহরণ: প্রধান আসামি সাঈদ গ্রেপ্তার ঢাকায় বর্ণিল আয়োজনে বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লায়ন্স ক্লাব ও স্কুলের দুই পক্ষ মুখোমুখি, ভাঙচুর ও অর্থ আত্মসাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পীরগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ কর্মশালা
গঙ্গাচড়ায় সারের ডিলারশিপে শুধু বিএনপি নেতার আত্নীয়, পীরগাছায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

গঙ্গাচড়ায় সারের ডিলারশিপে শুধু বিএনপি নেতার আত্নীয়, পীরগাছায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

স্ত্রী, জামাই, শ্যালক, ভাতিজা ও খালাতো ভাইয়ের মধ্যে ডিলারশিপ বণ্টনের অভিযোগ; ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা, তদন্ত ও নিয়োগ বাতিলের দাবি সংসদ সদস্যের।

হারুন-অর-রশিদ বাবু ||বাতায়ন২৪ডটকম 
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সারের ডিলার নিয়োগে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী, জামাই, শ্যালক, খালাতো ভাই, ভাতিজাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম উঠে এসেছে। অনুমোদিত ডিলারদের তালিকা ঘিরে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এ প্রক্রিয়াকে ‘বানরের পিঠা ভাগাভাগি’ বলে অভিহিত করে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

শুধু গঙ্গাচড়ায় নয়, রংপুরের পীরগাছা উপজেলাতেও সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। পীরগাছায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙার স্বাক্ষরিত একটি দলীয় তালিকায় ৯টি ইউনিয়নের জন্য ১৯ জনের নাম থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তালিকায় বিএনপি নেতাদের আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাসদ ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের নাম থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। সাতটি ইউনিয়নে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে; তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

# গঙ্গাচড়ার ৯ ইউনিয়নে আত্মীয়তার হিসাব:

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সার ডিলারদের তালিকা ধরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গঙ্গাচড়ার নয়টি ইউনিয়নের জন্য অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দলীয় পদধারীরা রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে সুপারিশের তালিকায় তাঁদের নাম প্রথম স্থানে ছিল।

তালিকায় দেখা যায়, দুটি ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতির স্ত্রী ও ভাতিজাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে। অন্য দুটি ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী ও শ্যালক ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া একটি ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির স্ত্রী, একটিতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির জামাই, একটিতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ভাই, একটিতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অন্যটিতে রংপুর-১ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনের খালাতো ভাই ডিলার হিসেবে অনুমোদন পেয়েছেন।

অনুমোদিত তালিকায় থাকা নয়জনের পরিচয় ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে তুলে ধরা হলো।

বেতগাড়ী ইউনিয়ন: কিশামত শেরপুর এলাকার রুহুল কুদ্দুস ‘মেসার্স মাহি ট্রেডার্স’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিপন মিয়ার ছোট ভাই।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন: কুড়িবিশ্যা গ্রামের গোলাম রব্বানী ‘এম এম ট্রেডার্স’-এর নামে অনুমোদন পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর শ্যালক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক।

বড়বিল ইউনিয়ন: বাগপুর গ্রামের মোছা. রুযিনা ‘রাহি এন্ড রাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর স্ত্রী।

গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন: ভুটকা এলাকার মোছা. মোসলেমা বেগম ‘মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকারের স্ত্রী।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন: মহিপুর এলাকার মোছা. জহুরা বেগম ‘তিস্তা করপোরেশন’-এর নামে অনুমোদন পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মাবুর স্ত্রী এবং রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ নেওয়াজ জোহার মা।

গজঘণ্টা ইউনিয়ন: জয়দেব উত্তর এলাকার মো. লোকমান হোসেন ‘মেসার্স এল এন্ড কে ট্রেডার্স’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি গজঘণ্টা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের জামাই। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে গজঘণ্টা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হন।

মর্নেয়া ইউনিয়ন: বড় রূপাই এলাকার মো. আমিরুল ইসলাম ‘মেসার্স অনিমা এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

আলমবিদিতর ইউনিয়ন: পাইকান মধ্যপাড়া এলাকার মো. আব্দুর রউফ বুলু ‘মেসার্স লাবিবা এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে অনুমোদন পেয়েছেন। তিনি আলমবিদিতর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এবং রংপুর-১ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনের খালাতো ভাই।

নোহালী ইউনিয়ন: মদনপুর বৈরাতী এলাকার মো. মশিউর রহমান ‘মেসার্স স্বপন সার ঘর’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকারের বড় শ্যালকের পুত্র।

##‘টাকা দিতে না পারায় ডিলারশিপ পাইনি’:

ডিলার নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালু। তিনি বলেন, ‘আমি উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আবেদন করেছিলাম। আমার কাছে টাকা চেয়েছিলেন সভাপতি। আমি দিতে পারি নাই। সেজন্য ২০ লাখ টাকা নিয়ে আমার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকে ডিলার দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজের স্ত্রী, ভাতিজা, বিয়াই, সাধারণ সম্পাদক স্ত্রী, শ্যালক এমনকি ভূমিহীনকেও সারের ডিলার দিয়েছেন। এরা সার বিতরণে গিয়ে সামলাতেই পারবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আপনি তদন্ত করে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’

বেতগাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম টন্ডু বলেন, ‘ভাই, আমি এক নম্বর ওয়ার্ডে ৩২ বছর থেকে ব্যবসা করি। সারের ডিলারশিপের ব্যবসা করি। আওয়ামী লীগের সময়েও আমাকে বাদ দিতে পারে নাই। কারণ আমার সুনাম এবং সবকিছু ছিল। কিন্তু এবার দলের নেতা হয়েও পেলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এখানে যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী, তারা পাইল না; বিদেশ থেকে আসলো। যার কোনো ব্যবসা নাই, সেই পাইলো। এটা অবশ্যই আর্থিক লেনদেনে হইছে। কারণ, যে এই ইউনিয়নে পেয়েছে, সে তো জমি বিক্রি করেছে। বোঝেনই তো, জমি বিক্রি করলে আর্থিক লেনদেন হয় না ভাই? এটা আমরা খুবই মর্মাহত।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য মমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অকপটে বলতেছি। নিঃসন্দেহে বিএনপির আমলে এই সার ডিলার নিয়ে সারা বাংলাদেশে যা করেছে, স্বাধীনতার পরে এমন নোংরা দলীয়করণ হয় নাই। এই দলীয়করণটা যদি দলের নিবেদিত কর্মীর জন্য হইতো, তাও মানা যেত। দলের নিবেদিত কর্মী পাইলো না, পাইলো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, আওয়ামী লীগ। যাদের কোনো ব্যবসা নাই, ব্যবসার অভিজ্ঞতাও নাই। জানি না কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে। অবশ্যই টাকা-পয়সা ছাড়া তো আর হয়নি। আজকে খালেদা জিয়ার বিএনপিই আমাদের দরকার ছিল। তারেক রহমানের বিএনপির হয়তো আমাদের দরকার নাই।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান তিতাস বলেন, ‘সার ডিলার এটা নিয়ে বলার কোনো ভাষাই নেই। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক কিছু হয়ে গেল। সব জায়গায় তো একই সিস্টেম চলতেছে। এখন কী করব বলেন। বলারই কিছু নাই, এই অবস্থা।’

#‘বানরের পিঠা ভাগাভাগি’ বললেন সংসদ সদস্য:
গঙ্গাচড়ায় অনুমোদিত সার ডিলারদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। তিনি বলেন, ‘ গঙ্গাচড়ায় সারের ডিলার বানরের পিঠা ভাগাভাগির মতো করে বিএনপি নেতারা স্ত্রী, ভাতিজা, জামাই, ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। এর সঙ্গে উপজেলা ও জেলা বিএনপি নেতা, ইউএনও এবং ডিসি সাহেব সরাসরি জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগের উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটিতে উপজেলা বিএনপি সভাপতি চাঁদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী সদস্য ছিলেন। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে এটা বাটোয়ারা করেছেন।’

অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

### যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলছে প্রশাসন:

অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রাপ্ত আবেদনপত্র সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করেছি। এরপর সেখান থেকে তিনজনের নাম জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ডিসি মহোদয়ের কাছে পাঠিয়েছি।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সার ডিলার নিয়োগের যাচাই-বাছাই কমিটিতে থাকার পরও তাঁদের স্ত্রী, শ্যালক ও শ্যালকের পুত্র ডিলার হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি স্বার্থের সংঘাত বা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আখতার বলেন, ‘তারা স্বতন্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।’

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, ‘উপজেলা কমিটির সুপারিশের আলোকে আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ে তিনজনের সুপারিশ করেছি। কৃষি মন্ত্রণালয় সেখান থেকে সার ডিলারের নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন।’

### পীরগাছায়ও স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

গঙ্গাচড়ার মতো রংপুরের পীরগাছায়ও সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙার স্বাক্ষরিত ‘ডিলার নিয়োগ-২০২৬-এর তথ্য’ শীর্ষক তালিকায় উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের জন্য ১৯ জনের নাম ছিল। তালিকায় বিএনপি নেতাদের স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাসদ ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের নাম থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পীরগাছার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।
এছাড়াও পীরগাছার দলীয় প্যাডে থাকা নামগুলোর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তালিকার নামের হুবহত মিল রয়েছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সুপারিশ, আত্মীয়তার সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন আবেদনকারীদের ব্যবসায়িক যোগ্যতা এবং বাছাই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

পীরগাছার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, অভিযোগকারীদের বক্তব্য যাচাই এবং তালিকা তৈরির নথি পর্যালোচনা জরুরি। একইভাবে গঙ্গাচড়ায়ও নিয়োগের ক্ষেত্রে কারা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কীভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কী সুপারিশ পাঠানো হয়েছে এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব প্রয়োজন।

# তদন্তের দাবি:
গঙ্গাচড়া ও পীরগাছায় সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ পড়ার প্রশ্ন। সার কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হওয়ায় ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা, গুদাম ও বিতরণব্যবস্থা পরিচালনার সামর্থ্য এবং নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আবেদনপত্র, সুপারিশের তালিকা, যাচাই-বাছাই কমিটির কার্যবিবরণী ও অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্য ব্যবসায়ীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com