স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর ||বাতায়ন২৪ডটকম ||
দল ক্ষমতায় যাওয়া নিবেদিত নেতাকর্মীরা হারিয়ে যাচ্ছে, হাইব্রিডদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। খালাতো ভাইয়ের ছোট ঘরের অমুকের নামে সুপারিশও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে রংপুর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিইএসসি) চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-আরপিডিএ চেয়ারম্যান ও মহানগর আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দুলু বলেন “এখানে নানা ধরনের অসংগতি তৈরি হয়। এটি যে শুধু রংপুরে হচ্ছে তা না, এটা গোটা বাংলাদেশেই হয়। যখন দল ক্ষমতায় যায়, তখন নিবেদিত অনেক কর্মী আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যায়। হাইব্রিডের আদান প্রদান হয় বেশি। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যেন সজাগ থাকি। এই সুবিধাবাদী চরিত্রের যারা, তারা এখন দলকে ব্যবহার করবে। আবার দল যদি কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হয়, এদের আমরা আর কোনো দেখা পাব না। সেই ব্যাপারে শুধু নেতৃবৃন্দ নয়, আপনাদেরও সজাগ থাকতে হবে। কেন থাকতে হবে? কারণ এটার অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি ‘।
ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, ‘ আপনারাই কিন্তু নানান দরবার তদবির নিয়ে যান। তাকে আমি ১৭ বছর রাজপথে দেখি নাই, চিনি না, জানি না। পরিচয় দেন, ‘আমার খালাতো ভাইয়ের ছোট ঘরের অমুক হয় আমার’। এগুলো থেকে আপনাদেরও একটু সজাগ থাকতে হবে। আজকে তারা হয়তো আমাদের ঘিরে ফেলেছে। এই ১৭ বছর একটা জঞ্জাল, বৈষম্য থাকার কারণে মানুষের আকাঙ্ক্ষা আছে, থাকবেই, কিন্তু এটা বেশি হচ্ছে।’
ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, ‘নিজের কথা না বলে অন্যের সুপারিশ নিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো থেকে আপনারা সজাগ থাকবেন। যখন আমরা শুনতে না চাই, তখন বলেন যে, ‘ভাই, আমি একটা সুপারিশ নিয়ে আসলাম, আপনি শুনলেন না?’ আমি বলি, ‘না, তোমার কথা বলো, নিজের কথা বলো আগে। আপনারা এইটার ব্যাপারে যেন আমরা সবাই সজাগ থাকবেন।’
ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, ‘ দল যখন ক্ষমতায় যায়, তখন দলের ভেতরে রাজনৈতিক কর্মসূচিটা কিছুটা হলেও কমে গেছে এই কিছুদিন যাবত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পার্টির চেয়ারম্যান কিছু কর্মসূচি দিয়েছে। ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে দিয়েছে। সামনে আমাদের সনাতন ধর্মের দুর্গা উৎসব রয়েছে, সেখানেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা হয়তো শীঘ্রই সভা করব আপনাদের সঙ্গে, উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।’
ত্রাণ বলেন, ‘ এই পুজো নিয়ে কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় ষড়যন্ত্র মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়। এই ফ্যাসিস্টরা নানান ভাবে চেষ্টা করে কীভাবে যাবে। কখনো বিদ্যুৎ নিয়ে আসে, কখনো পেট্রোল-জ্বালানি নিয়ে আসে, কখনো হয়তো অটো রিকশা নিয়ে আসতেছে, কখনো হয়তো পুজোর কোনো ইনসিডেন্ট নিয়ে আসার চেষ্টা করে। আমরা যেন সবাই নিজ দায়িত্বে স্ব-শরীরে অঞ্চলে সেখানে তাদের সহযোগিতা করি।’
ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটা মন্দিরে আমরা ইতিমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছি, গত ১০ বছরে যা বরাদ্দ তার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছি আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ত্রাণ ভান্ডার থেকেও যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। সেটা বড় জিনিস না, আমরা চাই এই পূজাটা যাতে তারা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারে—এটা হলো একটা।’
এর আগে মরহুম লাকুর জন্য দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে মরহুম লাকুর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি ডকুমেন্টরি প্রচার করা হয়।
এইচ আরবি/বাতায়ন২৪ডটকম