স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় সিআইডির সংগ্রহ করা আলামত সমূহে ওই ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়া সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাসের ডিএনএ স্যাম্পলের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
বৃহস্পতিবার ( ৮ অক্টোবর ) রাত ৮ টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিআইডির রংপুর অফিসের বিশেষ পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি যে ৩৫ টি আলোমত জব্দ করেছিল। তার মধ্যে কামড়ানো খেজুর, খেজুরের বিচি, কামড়ানোর শসা এবং সিগারেটের মুড়িতে পাওয়া ডি এন এর সাথে গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ দাশের ডিএনএ নমুনা মিল পাওয়া গেছে। এবং সেখানে শুধু দুইজন পুরুষেরই অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকান্ডটির বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলো ওই ঘটনায় সিদ্ধান্ত এবং মুগ্ধ দাস জড়িত।
গেল ২০ সেপ্টেম্বর রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাসের স্যাম্পল নেয়ার জন্য ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে নেয়া হয়। ঘটনার ১২ দিন পর তিনদফায় সেগুলো পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায় পুলিশ।
সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষায় সেসব আলামতের বেশ কিছুতে পুরুষ মানুষের অস্তিত্ব পাওয়ায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডি এন এ স্যাম্পল সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে সিআইডি।
গেল ২১ আগস্ট ভোর রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরে যাওয়ার শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী তার স্ত্রী প্রীতিলতা, কন্যা আগামী এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা।তবে ঘটনার নয় দিনের মাথায় কারাগার থেকে ইউরিনের স্যাম্পল সংগ্রহ করায় ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনাই সীমান্ত, বিদ্যুৎ এবং শান্ত নামের তিনজন সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ জানান, সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে ওই ঘটনার সাথে সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ জড়িত। প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শেষ করি এই মামলাটির চার্জশিট দেয়া হবে।
সমামা/এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম