স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় অবশেষে ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় আলামত পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিআইডির জব্দকৃত ৩৫টি আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজনের ডিএনএ নমুনা সংগৃহীত হলেও, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির নমুনা এখনো সংগ্রহ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গত দুই দিনে তিন দফায় জব্দকৃত আলামতগুলো ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়।
আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী জানান, ফরেনসিক ল্যাবের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে কারাগারে থাকা আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
আলামত সংগ্রহের বিষয়ে সিআইডি রংপুরের ভারপ্রাপ্ত এসপি সুমিত চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন সিআইডির বিশেষজ্ঞ পরিদর্শক মিল্লাতের নেতৃত্বে ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছিল। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, আলামতগুলোর মধ্যে রয়েছে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার, সিগারেটের ফিল্টার, নান রুটি, শসা, খেজুর এবং বেসিনের দাগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার তদন্ত জোরদার করতে আসামিদের ডিএনএ নমুনা দ্রুত সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এতে জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের অবসান ঘটবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহতদের ডিএনএ নমুনা আগেই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আসামিদের ডিএনএ পাওয়া গেলে ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে মেলানো হবে। এতে হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট গভীর রাতে রংপুর মহানগরীর ২৪নং ওয়ার্ড এলাকার মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক সহকারী শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স শেষ করা কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। ২২ আগস্ট রাত ১১টা থেকে ২৩ আগস্ট ভোরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর ২৩ আগস্ট ভোরেই সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন রাতেই তারা রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এ ছাড়া ২৫ আগস্ট একই আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তাঁদের বন্ধু সীমান্ত। ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা প্রথমে সীমান্তের ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে ২৬ আগস্ট দখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার (ডোম) বিদ্যুৎ দাস আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। মুগ্ধ গ্রেপ্তারের আগে শ্মশানে গিয়ে বিদ্যুতের কাছে আশ্রয় চেয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছিল।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।
এইচআরবি/ বাতায়ন২৪ডটকম