বেরোবি প্রতিনিধি|| বাতায়ন২৪ডটকম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অসুস্থতার কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অসুস্থতাজনিত কারণে পরীক্ষায় বসতে না পারা স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১২০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১৫০০ টাকা জরিমানা হিসেবে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া সাপেক্ষে এই নিয়ম কার্যকর হবে, যা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য ধরা হয়েছে।
সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা । তাদের মতে, অসুস্থতার মতো একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে এত টাকা জরিমানা দেওয়া সাধারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
এ বিষয়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমন সরকার বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, তাদের সমস্যাগুলো বোঝা এবং সমাধানের পথ তৈরি করা। শাস্তি বা জরিমানা দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত করা হয়তো সহজ, কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করার মাধ্যমে নিয়মিত করার চেষ্টা করাটাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত দায়িত্ব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই নিয়ম থাকুক, শৃঙ্খলা থাকুক, কিন্তু সেই নিয়ম যেন শিক্ষার্থীর বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষকবান্ধব হয়ে উঠছে এমন অনুভূতি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সত্যিই হতাশাজনক ও দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় হোক শিক্ষার্থীদের কল্যাণে, তাই শুধু নিয়ম নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হোক।”
ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হওয়া উচিত, যখন একজন শিক্ষার্থী সেমিস্টারের শুরুতেই জানতে পারবে তার পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগের একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার থাকা উচিত, যেখানে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। অন্যথায়, পরীক্ষার সময়সূচি না জানিয়ে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম করার সামিল।”
ইসার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “জরিমানা করাটা আসলে মুখ্য বিষয় নয়। অকারণে বা ভিত্তিহীন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড সেমিস্টার পরীক্ষা মিস করার প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা যে হারে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে, সেই তুলনায় ফাইনাল পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে না। আমরা মনে করি, এই নিয়ম আরোপ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এড়ানোর এই প্রবণতা কমবে।”
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম