স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভায় রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা সহ্য করা হবে না। প্রয়োজন হলে কঠোর হস্তে অসাধু চক্র দমনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ফ্যাসিস্ট চক্রের অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত
কৃষকদের বিক্ষোভ এবং সংকট না থাকা সত্ত্বেও মাঠে সার পাওয়া যাচ্ছে না এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ কমিশনার মাবুদ বলেন, “আমার কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, রংপুর থেকেই ফ্যাসিস্টরা একটা ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা চায় এই রংপুর থেকে একটা ইস্যু তৈরি করে সরকারকে অস্থিতিশীল করতে।” তিনি উল্লেখ করেন, সার ব্যবস্থাপনার সাথে এখনও পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার বহু লোক এবং তাদের সমর্থকরা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।
ডিলারশিপে অভিজ্ঞতার শর্ত বাদ দিয়ে দেশপ্রেমিক ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ফ্যাসিস্ট আমলের আধিপত্য ভাঙতে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে ডিলারদের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতার শর্ত বাদ দিন। অভিজ্ঞতার শর্ত দিলে ১৭-১৮ বছরের Fascist-ই তো অভিজ্ঞ দেখাবে। কিন্তু ৫ই আগস্ট বা ৩৬শে জুলাইয়ের পরের দেশপ্রেমিক ও জুলাই যোদ্ধারা তো সেদিক থেকে অভিজ্ঞ না।” ব্যবসা পরিচালনা ও সেবার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার চেয়ে ‘পেশাদার দেশপ্রেম, পজিটিভ অ্যাটিটিউড এবং ঈমান-আকিদা’ বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সার ব্যবসাকে কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড না ভেবে ‘দেশসেবা’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান আব্দুল মাবুদ।তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বা সরকার দলের সমর্থক কালোবাজারি কিংবা অনিয়মে যিনিই জড়িত থাকুন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কমিশনার বলেন, কেবল তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্টে শাস্তি দিয়েই ক্ষান্ত হওয়া হবে না। অনিয়মে জড়িতদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বজনদের ভূমিকা এবং গত ১৭-২০ বছরের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে ‘চৌদ্দগোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সামান্য টাকা বেশি নেওয়ার বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের দমনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব সেলিম খান। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, র্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক কর্নেল মঞ্জুর করিম এবং বিজিবি ৫ সেক্টর কমান্ডারের পক্ষে লে. কর্নেল মোঃ নাজিউর রহমান।
সভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার এডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিজি মোঃ আব্দুর রহিমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) ও বিএডিসি সার ডিলারবৃন্দ, স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সচিব স্পষ্ট জানান, দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের মোট চাহিদা ১৮ লাখ ৯ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন এবং এর বিপরীতে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে; কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে যৌথ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জোরদার করা হবে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম