স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |ঢাকা| বাতায়ন২৪ডটকম
রাজধানীর পৃথক তিন এলাকা থেকে আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে মুগদা, কামরাঙ্গীরচর ও বাড্ডা এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃতরা হলেন মুগদার সবুজ ওরফে বাবু (২০), কামরাঙ্গীরচরের নয়ন (৩০) এবং বাড্ডার রবিউস সানি (৩২)। তিনটি ঘটনাতেই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্টরা।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তারেক দীপু গণমাধ্যমকে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পাগল চাঁন হোটেলসংলগ্ন শফিক শেখের বাসার নিচতলার একটি কক্ষ থেকে সবুজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় চাদর পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, সবুজের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার দক্ষিণগুনের বাড়ি এলাকায়। তার বাবার নাম মো. বদু শেখ। মুগদার ওই বাসায় মা-বাবা, স্ত্রী ও এক সন্তানের সঙ্গে থাকতেন তিনি। পেশায় ইটভাঙার শ্রমিক সবুজ নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, নেশার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সঙ্গে তার প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। বুধবার নেশার টাকা না পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অন্যদিকে সকাল ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগর এলাকার একটি বাসা থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ গণমাধ্যমকে জানান, নয়ন ওই বাসায় স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত কাজ না করায় নয়নের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটন ছিল। গত মার্চে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে চলে যান। এর পর থেকে হতাশায় ভুগছিলেন নয়ন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নয়নের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা থানার বয়াতিকান্দি এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত মোসলেম উদ্দিন।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড্ডার স্বাধীনতা সরণি এলাকার একটি বাসা থেকে রবিউস সানির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড্ডা থানার এসআই জয়ন্ত দত্ত গণমাধ্যমকে জানান, পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহটি বিছানায় শায়িত অবস্থায় ছিল।
পুলিশ জানায়, রবিউস সানি বিবাহিত ছিলেন এবং একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পারিবারিক ও কর্মস্থলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে রবিউস সানিকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিচে নামিয়ে আনেন।
তিনটি ঘটনাতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পৃথক এসব ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে।
সুত্র:কালবেলা
এইচ আরবি/বাতায়ন২৪ডটকম