স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন আনসারীর মোড় এলাকায় নিজ অটোরিকশা গ্যারেজের ভেতরে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও মাথায় আঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর টাকা-পয়সা লুট করে ঘরের বাইরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে র্যাব-১৩।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ও এলাকাবাসী অটোরিকশা গ্যারেজের তালা ভেঙে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত তামিরুদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গ্যারেজ বন্ধ দেখে এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা তালা ভেঙে ভেতরে রক্তভেজা নিথর দেহ দেখতে পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশ ও সিআইডি (CID)-এর একটি বিশেষ ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার দিনই (১৩ আগস্ট) নিহতের ছেলে নূর নবী বাদী হয়ে তাজহাট থানায় ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৮)।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্তে নামে রংপুর র্যাব-১৩। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে রংপুর ও আশেপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করে র্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে তাদের তাজহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জ থানাধীন পুর্ব খাসবাগের বাসিন্দা মো. হায়দার আলীর পুত্র মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), অপর দুইজন হলেন, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন ভোটমারী গ্রামের মো. নাছির উদ্দীন এর মেয়ে, মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৫৫) এবং মহির উদ্দিন এর পুত্র মোঃ রেজাউল ইসলাম (৫৫)।
তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “র্যাব কর্তৃক হস্তান্তর করা তিন আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এইচ আরবি/বাতায়ন২৪ডটকম