সংবাদ শিরোনাম :
প্রয়াস পার্কে মেলার নামে জুয়া ও লটারি বন্ধ না হলে, কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে -এমপি বেলাল লক্ষ্মীপুর থেকে হারাগাছে আসত ইয়াবা! ১,১৪৫ পিসসহ গ্রেফতার-১, পলাতক-১ শিশু পানিতে ডুবে গেলে করণীয় শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয় জীবন দিয়েছিলেন মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্যঃ রেজেকা এমপি   শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচার করা হবেঃ ডন ‘ আমার বাচ্চা যেন নেশার টাকার জন্য আমাকে খুন না করে সেজন্যই বাচ্চাকে নিয়ে মানববন্ধনে দাড়িয়েছি’ ফুটবল নয় ফু-বল চ্যাম্পিয়নশিপ হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের জন্য মাঝনদী থেকে ফেরি ঘাটে ফেরানোর অভিযোগ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের শোক ইতিহাসের প্রথমবার র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ যে চার দল সেমিফাইনালে
প্রয়াস পার্কে মেলার নামে জুয়া ও লটারি বন্ধ না হলে, কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে -এমপি বেলাল

প্রয়াস পার্কে মেলার নামে জুয়া ও লটারি বন্ধ না হলে, কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে -এমপি বেলাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|| রংপুর || বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুরে প্রয়াস পার্কে মেলার নামে জুয়া, হাউজি এবং লটারির মাধ্যমে জনসাধারণকে শোষণ করা বন্ধের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে নগরবাসী। মেলা বন্ধের দাবিতে হাজার হাজার নারী-পুরুষের বিশাল মানববন্ধন করেছে ‘জাগ্রত রংপুর সমাজ’ নামের একটি সংগঠন। সেখানে সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছে ১১ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। মানববন্ধনে যোগ দিয়ে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাহবুবুর রহমান বেলাল ঘোষণা দিয়েছেন, ‘এই মানববন্ধন সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটা ভদ্রভাবে সিগন্যাল দিলাম। এতেও মেলা বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।’
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনে সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেন। জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে জীবনবীমা মোড় পর্যন্ত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে যান তারা। এ সময় তারা জুয়া, মাদক ও লটারি বিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমীর এটিএম আজম খানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট তারেকুজ্জামান তারেক, অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, কারমাইকেল কলেজের সাবেক জিএস আবুল কালাম আজাদ, শামসুদ্দিন সুজা প্রমুখ।
উক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেয় আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ, অঙ্গীকার শিল্পীগোষ্ঠী, পায়রা শিল্পীগোষ্ঠী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লেবার পার্টি, জাগপা, বিশিষ্ট আলেম সমাজ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন।
মানববন্ধনে নগরীর কেরানীপাড়া মৌবন থেকে নিজের কোলের সন্তানকে কাঁধে নিয়ে অংশ নেন গৃহবধূ মেরিনা পারভীন। তিনি জানালেন, ‘বিগত সময়ে আমরা অনেকেই দেখছি, ঐশী নামের মেয়েটাকেও দেখছি, যে নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে, মাকে হত্যা করছে। আমি চাই আমার বাচ্চারাসহ পরবর্তী প্রজন্ম যেন এই নেশার টাকার জন্য পরবর্তীতে কোনো বাবা,মা, বোন যেন আর খুন হতে না হয়। তার প্রতিবাদেই আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় এই মানববন্ধনে এসেছি।’
নগরীর মণ্ডলপাড়া থেকে অংশ নেওয়া লাকি জামান নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমি কোনো দল-মত এত কিছু বুঝি না। আমি সাধারণ জনগণ। সাধারণভাবে কথা বলতেছি। আমি চাই আমার সন্তান যেমন, অন্য আট-দশজনের সন্তানও তেমন। সবাই ভালো থাকবে, এটাই আমার চাওয়া। মেলায় হচ্ছে হাউজি, তারপরে এই জুয়া খেলা। ওখানে অনেক ছেলে-মেয়েরা গিয়ে এসব খেলতেছে। টাকা-পয়সা না দিলে তারা বাবা-মাকে মারধর করে। এতে বাবা-মায়েরা হয়রানি হচ্ছে, ছেলেরাও নষ্ট হচ্ছে। অনেকে সন্ত্রাসী হয়ে গেছে। বাচ্চা বাচ্চা মেয়েকে নিয়া অশান্তি। বাইরে বের হতে পারে না মেয়েরা। ছেলেরা বাইর হয়। তারা বলে মা এটা দাও, মা ওইটা দাও। মানে অতিরিক্ত সংসারে অশান্তি। সংসারে অশান্তি। তাই ওটা বন্ধের জন্য মানববন্ধনে এসেছি।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ঘাঘট এলাকার আতিকুল ইসলাম নামের আরেক অভিভাবক বলেন, ‘আসলে সেখানে মেলার নামে অনৈতিক কার্যকলাপ চলে। এর মাধ্যমে ছাত্র-জনতা ও অনেক শিক্ষিত মানুষও অবক্ষয়ে নষ্ট হইতেছে, অর্থ নষ্ট হইতেছে। এটা আমাদের সমাজবিরোধী, দেশবিরোধী কার্যকলাপ। এটা বন্ধের জন্য আমরা মানববন্ধন দাঁড়াইছি। এটা বন্ধ করতেই হবে।’
এতে অংশ নেওয়া জুম্মাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন জানান, ‘মেলা হলে চুরি-ছিনতাই বাড়ে, মাদকের ছড়াছড়ি বেশি হয়। বাড়িতে অনেক ঝুট-ঝামেলা হয়, অনেক চুরিচামারি হয়। এটা বন্ধ হওয়াই ভালো। আমরা যে ব্যবসা করি, ছোটখাটো ব্যবসা করি, আমাদের জন্য ক্ষতি হয়। অনেক নিরীহ লোক নিঃস্ব হয়ে যায়। এটা বন্ধ করা সবচেয়ে উত্তম। আমরা এই মেলা চাই না।’
এ সময় এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, ‘মেলার নামে রংপুরবাসীকে শোষণ করা হচ্ছে। জুয়া ও মাদকে ছেয়ে গেছে রংপুর। চুরি বেড়েছে, অপরাধ বেড়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা দ্রুত মেলা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। রংপুরবাসীর আন্দোলনের সাথে আমরা আছি।’
মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে মহানগরী জামায়াতের আমীর এ টি এম আজম খান বলেন, ‘আজকে রংপুরের জাগ্রত জনতা জেগে উঠেছে। আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রায় সকল দল এটার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি। রংপুরের মানুষকে শোষণ করার মেলা হবে, মেলার মাধ্যমে ভেতরে গণ্ডগোল হবে আর জুয়ার মাধ্যমে সমাজ ধ্বংস হবে, আর মাদক সেবনের মাধ্যমে যুবকরা বিধ্বংসী হবে এটা আমরা হতে দেবো না। আমরা জাগ্রত রংপুরবাসীর পক্ষে আছি। সামনে যেকোনো কর্মসূচিতে আমরা থাকবো ইনশাআল্লাহ।’
যোগ দিয়ে রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল ঘোষণা করেন, ‘একটি বিশেষ মহল বিভিন্ন সময়ে মেলার নামে খেলার আয়োজন করে। কী খেলা? জুয়া খেলা, হাউজি খেলা, লটারি খেলা, পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড। আপনারাই বলেন, এই সমস্ত কাজের মাধ্যমে সমাজ এগিয়ে যাবে না ধ্বংস হবে? নিঃসন্দেহে ধ্বংস হবে এবং আমাদের যুবসমাজের চরিত্র নষ্ট হবে। পরিবারে নানা সংকট তৈরি হবে এবং হচ্ছে। আজকে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারও চেষ্টা করছে, প্রশাসনও চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা কার্যকর কোনো প্রভাব দেখতে পাচ্ছি না। কাজেই মানুষের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।’
বেলাল বলেন, ‘আমি পরিষ্কার বলছি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই জাতির অহংকার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবাইকে সম্মান করে দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে। তাদের একটা আলাদা ইমেজ আছে এবং সেই ইমেজকে আমরা শ্রদ্ধা করি। এই দেশের বিরোধী দলের নেতা, এই দেশের সরকারি দলের নেতাসহ সবাই সেনাবাহিনীকে স্যালুট করে দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে। কাজেই তাদের দ্বারা পরিচালিত একটা প্রয়াস। প্রয়াসের কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে ভালো। নিঃসন্দেহে এটা মানবিক। নিঃসন্দেহে এটা আমরা সমর্থন করি। কিন্তু এই মানবিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে গিয়া আবার সমাজের সর্বনাশ করা মেলা করা হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
এমপি বেলাল আরও বলেন, ‘কাজেই আমি আবারও অনুরোধ করব সেনাবাহিনীর সম্মানিত কর্তৃপক্ষকে, এই মেলা বন্ধ করুন। জনগণের ক্ষোভ না হলে আরও বাড়বে এবং সামনে এই মেলা বন্ধ করার জন্য হয়তো জাগ্রত নাগরিক সমাজ বড় আন্দোলন দিতে বাধ্য হবে। আমরা আজকে খুবই ভদ্র পরিবেশে একটি মানববন্ধন করছি। এর মাধ্যমেই মূলত আমরা রংপুরবাসীর পক্ষ থেকে মেসেজ দিলাম। আবেদন করলাম, আহ্বান জানালাম নিয়মতান্ত্রিকভাবে, ভদ্রজনোচিতভাবে। আশা করি আপনাদের বিবেকের বোধোদয় ঘটবে এবং এই সমাজ বিনষ্টকারী, সাধারণ নাগরিকদের সর্বস্বান্তকারী, বিষাক্তকারী এই মেলার নামে খেলা বন্ধ করে রংপুরবাসীর যে আজকের এই উদ্বেগ, এই উদ্বেগ আপনারা দূর করবেন। আপনাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে। আমি আপনাদেরকে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, মেলা বন্ধ করুন এবং আমাদের এই হাউজি, লটারি, জুয়া থেকে আমাদের যুবসমাজসহ সাধারণ মানুষকে রক্ষা করুন।’
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com