সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষকের সঙ্গে তিন মাসে ১১৮ বার ফোনালাপের তথ্য ডিবির সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে, ভয়াবহ ভাঙনে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার সুন্দরগঞ্জে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন পাঁচপীর বাজার ফুটবল একাদশ রংপুরে আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রির পরও জমির দখল না পাওয়ার অভিযোগ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নে র‍্যালি ও সমাবেশ রংপুরে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় সভা করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় সমালোচনার মুখে জামায়াত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আগামী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি জাহিদ , সাধারন সম্পাদক খিজির ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে, ভয়াবহ ভাঙনে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে, ভয়াবহ ভাঙনে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা পানিবৃদ্ধিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আবারও ভয়াল রূপ ধারণ করেছে তিস্তা নদী। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। এতে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

বাতয়ন২৪ডটকম।। নিজস্ব প্রতিবেদক গাইবান্ধা (সুন্দরগঞ্জ) ।। ২৯ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, রোববার বিকেল ৫টা থেকে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

পানিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী ও রাঘব, চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা এবং কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানীর চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা আবাদি জমিও নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে মানুষের বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি ও জীবিকার শেষ সম্বল।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, “আমার ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লালচামার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানীর চরে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ২০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। শতাধিক বিঘা ফসলি জমিও নদীতে বিলীন হয়েছে। মানুষ এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।”

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছরই নদীভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। ফলে বারবার ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়ার শঙ্কায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, “পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ২০ থেকে ২৫টি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে।”

এদিকে তিস্তার পানিবৃদ্ধি ও অব্যাহত নদীভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তীরবর্তী হাজারো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সাময়িক নয়, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি বছরের এই দুর্ভোগ থেকে তাদের স্থায়ী মুক্তি নিশ্চিত করা হোক।

বাতায়ন২৪_মাহমুদুল হাসান

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com