স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানাধীন আরাজী বীরচরণ গ্রামের পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে হারাগাছ থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মহানগরীর সাহেবগঞ্জ তিনমাথা মোড়ে ‘সচেতন ছাত্রসমাজ’-এর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পলাশের শোকাহত স্বজন, প্রতিবেশী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহতের মেজো ভাই আশরাফুল অভিযোগ করে বলেন, গোপনে জমি কেনার পাঁয়তারার প্রতিবাদ করার জেরে গত ১০ আগস্ট রাতে মোজাহার আলী ও তার দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ কয়েকজন আত্মীয় দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড, হাতুড়ি, এসএস পাইপ) নিয়ে সাহেবগঞ্জ তিনমাথা বাজারে পলাশের ওপর নারকীয় হামলা চালায়।
নিহতের মা আকলিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চোখের সামনেই ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।” এ সময় তিনি সন্তান হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।
পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ, ঘটনার রাতে মারাত্মক আহত পলাশকে নিয়ে থানায় যাওয়া হলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে পলাশের মৃত্যুর পরই কেবল হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ও বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের বোনজামাই আজাদ মিয়া, ভাবী খাতিজা বেগম এবং স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির রহমান, নাহিদ ইসলাম, আজাহার কবীর ও মাকারিম চৌধুরী। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জনাকীর্ণ বাজারে প্রকাশ্যে হামলা চালানো হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। মামলার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত আসামি সাব্বির, সজিব, মানিক, সোনা, মনছুর ও মিটুল এখনো অধরা।
তারা স্পষ্ট হুশিয়ারি দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পলাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে হারাগাছ থানা ঘেরাও ও হরতালসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, নিহত পলাশ কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ থানাধীন আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার পরিদর্শক (ওসি) অশোক চৌহান জানান, ১০ আগস্টের ঘটনার পরপরই পুলিশকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে গত ১৯ আগস্ট (বুধবার) মামলা দায়ের হওয়ার পরপরই ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম