সংবাদ শিরোনাম :
বেরোবিতে উপাচার্যের পিএসহ ১৫ কর্মকর্তার অবৈধ পদোন্নতি, বেতন ফেরতের সুপারিশ দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্টের অভিজ্ঞতায় সড়ক ও বিআরটিএ নিয়ে জাইমা রহমানের এক ডজন প্রশ্ন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা রবিউল ইসলাম রংপুরে লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে এমপি বেলালের বৈঠক রংপুরে হিমাগারভাড়া কমানোর দাবিতে কৃষি বিপনন অফিস ঘেরাও টঙ্গীতে অটোরিকশা ও ধারালো অস্ত্রসহ চার ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার বিপ্লব -সুদীপসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত আমরা সবাই বাংলাদেশি, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুর রেঞ্জে নতুন ডিআইজি আব্দুল মাবুদ, পদায়নে গুরুত্ব পেল স্থানীয় অভিজ্ঞতা মির্জা ফখরুলের বৈষম্যমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্টের অভিজ্ঞতায় সড়ক ও বিআরটিএ নিয়ে জাইমা রহমানের এক ডজন প্রশ্ন

দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্টের অভিজ্ঞতায় সড়ক ও বিআরটিএ নিয়ে জাইমা রহমানের এক ডজন প্রশ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|ঢাকা| বাতায়ন২৪ডটকম

সম্প্রতি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সেবা এবং আইন প্রয়োগের বৈষম্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা জাইমা রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রশ্নগুলো তোলেন।

প্রথম ড্রাইভিং টেস্ট দশ বছর আগে লন্ডনে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জাইমা রহমান লেখেন, দুটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও একটি ব্যবস্থা তাঁকে বাস্তব জীবনের জন্য যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি তা করেনি। পরীক্ষা ও লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ভেবেছেন।

তরুণদের হতাশা ও সড়ক ব্যবহারের বৈষম্য
ঢাকার তরুণদের মৌলিক হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, নিয়ম মানার প্রত্যাশা করা হলেও দেশের সড়ক ব্যবস্থা নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য নয়। ফুটপাত দখল, পর্যাপ্ত ক্রসিংয়ের অভাব এবং বাস, মোটরসাইকেল ও রিকশার নিজস্ব অলিখিত নিয়মে চলার কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। অন্যদিকে গণপরিবহনের চালকদের প্রশিক্ষণ, যান্ত্রিক ফিটনেস ও বিশ্রামের অভাব থাকলেও যাত্রীদের তা নীরবে মেনে নিতে হয়।

বিআরটিএ ও ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতা
বিআরটিএর সেবাদান প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল সেবা চালুর পরও সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানের জন্য কেন অফিসে যেতে হয়?
সরাসরি যোগাযোগের কারণে কেন দেরি, পক্ষপাত বা লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়?

লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও সেই কাগজটির জন্য কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়?
দালাল বা মধ্যস্থতাকারী কেন জটিল সরকারি ব্যবস্থার সহজতম সমাধান হয়ে ওঠে?
তিনি স্পষ্ট করেন, মানুষ ইচ্ছে করে আইন ভাঙে না; বরং পদ্ধতিগত জটিলতার কারণেই দুর্নীতি ব্যতিক্রম না হয়ে কাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

আইন প্রয়োগের বৈষম্য ও ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেছে বেছে পদক্ষেপ নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি লেখেন, নতুন চালকরা যখন ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরোয়া চালনা অবলীলায় চলতে দেখেন, তখন নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেন। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা সমস্যাগুলোর আট বছর পরও কেন কোনো স্থায়ী সমাধান হলো না।

ভাবনার কাঠামো বদলানোর আহ্বান
জাইমা রহমান জোর দিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কেবল শাস্তি বা লাইসেন্সের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িত। নীতিমালার পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে:

প্রভাব বা পরিচিতি থাকুক বা না থাকুক, সবাই কীভাবে একই পরিষেবা পাবে? আইন প্রয়োগকে কীভাবে সবার জন্য ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যাবে? কীভাবে অভিযোগ জানানোকে নিরাপদ ও কার্যকরী করা যাবে? রাস্তার নকশা কীভাবে এমন হবে যাতে একটি সাধারণ ভুলের জন্য কারও প্রাণ না যায়?

এইচ আরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/ঢাকা

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com