“এই দেশের মাটিতে শেখ হাসিনাকে ফেরৎ এনে বিচার করা হবে” ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রংপুরে শহীদ যুবদল কর্মীদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই দাবি জানান।
শনিবার (১৯ জুলাই, ২০২৬) বিকেল ৩টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম হলরুমে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রংপুর সিটি বাজারের সামনে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশের গুলিতে শহীদ, রংপুর মহানগর যুবদল কর্মী মেরাজুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন মিলন ও সাজ্জাদ হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। “রক্তাক্ত রাজপথ” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রংপুর মহানগর যুবদল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা আমাদের ভাইদের বুক ঝাঁজরা করে দিয়েছে, সেই ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী খুনি হাসিনাকে এ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে এনে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যারা এই বর্বরতা চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
শহীদ পরিবারের আবেগঘন বক্তব্য ও বিচার দাবি স্মৃতিচারণ পর্বে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মা ময়না বেগম বলেন, “আমার নিরীহ ছেলেকে যারা পাখির মতো গুলি করে মারলো, সেই খুনি হাসিনা আর তার দোসর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই। প্রশাসন যেন অবিলম্বে তাদের বিচারের মুখোমুখি করে।”
শহীদ মেরাজুল ইসলামের স্ত্রী নাজমীম বেগম বলেন: “স্বামীর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা কতটা কষ্টের তা শুধু আমিই জানি। আমি এই দেশের মাটিতে শেখ হাসিনার কঠোর বিচার দাবি করছি।”
শহীদ মোসলেম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী দিলরুবা বেগমও প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি নাজমুল আলম। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম লেলিন। বক্তারা প্রত্যেকেই শহীদদের রক্তে ভেজা রাজপথের কথা স্মরণ করে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ নির্মূল ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা শেষে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে শহীদ তিন পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সম্মান জানিয়ে প্রত্যেক পরিবারের হাতে উপহার হিসেবে ১১,০০০ (এগারো হাজার) টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
এইচআরবি/ বাতায়ন২৪ডটকম/ এইচআরবি