ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ৬৬৫ জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার বেলা ৪টায় মৌলভীবাজারের জনসভা থেকে সুইচ টিপে ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।। রংপুর ।। বাতয়ন২৪ডটকম ।। ১৮ জুন ২০২৬
একই সময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপস্থিত উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ পৌঁছে যায়। মোবাইলে অর্থ পাওয়ার বার্তা পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। পরে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপকারভোগী রিতা বর্মণ। তিনি বলেন, “মোবাইলে টাকা পেয়েছি। প্রতি মাসেই এই সহায়তা পাব। এতে আমার পরিবারের অনেক উপকার হবে। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা সন্তানদের জন্য পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারব। পাশাপাশি তাদের লেখাপড়ার খরচও বহন করতে সুবিধা হবে। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”
বিধবা সাহারা বানুও সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “স্বামী না থাকায় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করি। প্রতি মাসে এই অর্থ পাওয়ায় সংসারের অনেক প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের গৃহবধূ অর্চনা রানী বলেন, “আমার দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় খরচ ঠিকমতো বহন করতে পারি না। ফ্যামিলি কার্ডের এই অর্থ থেকে সন্তানদের শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করতে পারব।”
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, “জনগণের কল্যাণে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।”
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু বলেন, “বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। রংপুরকে এ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”
সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড একটি সময়োপযোগী ও জনবান্ধব উদ্যোগ। আমরা চাই এই সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।”
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা খান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।”
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথমে চতরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৫৫ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। পরে প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় ৬৬৫ জন নারীকে চূড়ান্তভাবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। তারা চলতি মাসের অর্থ পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রতি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই সহায়তা পেতে থাকবেন।
বাতায়ন২৪ডটকম।। আদিল