সংবাদ শিরোনাম :
ফেরদৌস জয় সভাপতি, আতিক হাসান সম্পাদক, রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠন তারাগঞ্জে ডিবি ও কিউআরটির অভিযানে ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার রংপুরে সার ডিলার নিয়োগ বানরের পিঠা ভাগের মতো হয়েছে; এমপি রায়হান সিরাজী রংপুরে আইনশৃঙখলা সভায় ডিসিসহ কর্মকর্তাদের শাসালেন – এমপি বেলাল রংপুর রেঞ্জে পদোন্নতি পরীক্ষা দিলেন ৪৫৯ পুলিশ সদস্য দিনাজপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার জুয়ার প্রতিবাদ করায় শিক্ষক হত্যা:প্রধান আসামির সহযোগী গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে বাঁশঝাড়ে মিলল পিস্তল-গুলি, ইয়াবা ও এস্কাফ রংপুরে অনলাইন জুয়া খেলার সময় যুবক গ্রেপ্তার, মোবাইল ফোন উদ্ধার রংপুর রেঞ্জে কিউআরটি’র বিশেষ অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১১৭
‎ইতিহাসের নীরব সাক্ষী বদরগঞ্জের লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ

‎ইতিহাসের নীরব সাক্ষী বদরগঞ্জের লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ

স্টাফ করেসপন্ডেট রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের এক শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা সবার কাছে “লালদিঘী মসজিদ” নামেই পরিচিত। এর পোশাকি নাম অবশ্য “লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ”।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত এই মসজিদটি শুধু একটি মসজিদ’ই নয়, এটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী, যা আজও বহন করে চলেছে অতীতের গৌরবময় অধ্যায়।

‎বদরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী নামক স্থানে অবস্থিত হওয়ার কারণে এই মসজিদটি স্থানের নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। সুবিশাল দিঘীর পাশেই এর অবস্থান, যা মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। লালদিঘীর পানিতে মসজিদের প্রতিবিম্ব এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও মুগ্ধ করে তোলে।

যদিও এর নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না, তবে স্থাপত্যশৈলী ও গঠন প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করেন যে, এটি সুলতানি আমলের শেষ ভাগে অথবা মুঘল আমলের প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছিল। নয়টি গম্বুজ দ্বারা শোভিত এই মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিটি গম্বুজই নিখুঁত কারুকার্য খচিত, যা তৎকালীন কারিগরদের দক্ষতা ও শিল্পকলার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। মসজিদের দেয়াল জুড়ে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকের অপূর্ব ব্যবহার, যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জ্যামিতিক নকশা ও লতাপাতার মোটিফ। এসব নকশা কেবল সৌন্দর্য বর্ধনই করে না, বরং তৎকালীন সময়ের রুচি ও শিল্পভাবনা সম্পর্কেও ধারণা দেয়।

মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে এক শান্ত ও পবিত্র পরিবেশের অনুভব হয়। প্রশস্ত মেহরাব এবং মিহরাবের কারুকার্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কালের পরিক্রমায় মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক এটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত থাকবে।

লালদিঘী মসজিদ কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন, আর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি পর্যটকদের কাছেও এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। মসজিদের শান্ত পরিবেশ এবং এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যদি সম্মিলিতভাবে এই মসজিদের প্রচার ও প্রসারে আরও উদ্যোগী হয়, তবে এটি বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে আরও উজ্জ্বলভাবে স্থান করে নিতে পারবে।

লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ – এক ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা সময়ের স্রোতে দাঁড়িয়ে আজও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এক গৌরবময় অতীতের কথা। এর প্রতিটি ইঁট, প্রতিটি নকশা যেনো ইতিহাসের পাতায় লেখা এক নীরব কাব্য।

বাতায়ন২৪ডটকম/ রিয়াদ ইসলাম 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com