হারুন-অর-রশিদ বাবু||রংপুর ||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুরের কাউনিয়ায় সেভেন স্টার গ্যাং ও কোহিনুর গ্যাংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে ফখরুল আলম রতন নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোহিনুর গ্যাংয়ের সদস্য মজনুর নেতৃত্বে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। মজনু উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ। নিহত রতন স্থানীয় সেভেন স্টার গ্যাংয়ের প্রধান নয়নের বড় ভাই।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রতনকে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সেভেন স্টার গ্যাং ও বিএনপি-সমর্থিত কোহিনুর গ্যাংয়ের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেভেন স্টার গ্যাংয়ের সদস্যদের হয়রানির কারণে কোহিনুর গ্যাংয়ের লোকজন এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময়ের পর কোহিনুর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করে সেভেন স্টার গ্যাংয়ের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর সেভেন স্টার গ্যাংয়ের প্রধান নয়ন, তাঁর দুই ভাই মিলন ও রতনসহ অনেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। কয়েক দিন আগে রতন এলাকায় ফিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার সাঁটান। এর মধ্যেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল।
স্থানীয় বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হায়দার আলী বলেন, “রতন হলো আওয়ামী লীগ নেতা ও সেভেন স্টার গ্যাংয়ের নেতা নয়নের বড় ভাই। রতন ৫ আগস্টের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিল। হঠাৎ করে কবে জানি এলাকায় এসেছে। আজকে বিকেলে তার বাড়ির সামনেই কোহিনুর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই শত্রুতা অনেক আগ থেকেই চলে আসছিল। আওয়ামী লীগ আমলে সেভেন স্টার গ্যাংয়ের কারণে কোহিনুর গ্যাংয়ের লোকজন বাড়িছাড়া ছিল। ৫ আগস্টের পর থেকে সেভেন স্টার গ্যাংয়ের লোকজন বাড়িছাড়া। আজ হঠাৎ করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটল।”
নিহত রতনের মা সাংবাদিকদের কাছে বিলাপ করতে করতে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের একটা মেয়ে আইএ পড়ে, আরেকটা বাচ্চা ক্লাস টুতে পড়ে। এখন বাচ্চাদের কী উপায় হবে? কে দেখবে আমার নাতি-নাতনিদের? আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না রে। আল্লাহ তুমি যদি বিচার না করো, কে করবে আমাদের বিচার?”
রতনের চাচী জানান, বিকেলে পীরগাছা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রতন। বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছে মোটরসাইকেল থেকে এক পা নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই মজনু, লুৎফর ও রিপন ছোরা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থাতেই রতনকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একপর্যায়ে বুকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারীরা তাঁর পা ভেঙে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রতনের চাচী আরও বলেন, হামলার সময় ফজলু নামের এক যুবক রতনকে না মারার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। রতনের মা অসুস্থ থাকায় তাঁকে দেখতেই বাড়িতে এসেছিলেন রতন। কিন্তু মায়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তাঁকে হত্যা করা হয়।
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাদল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “পূর্বশত্রুতার জেরে রতনকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম