সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে এক হোটেল থেকে পুলিশের বর্তমান ও সাবেক দুই সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা ত্রাণ মন্ত্রীর ডিও লেটারের বিরুদ্ধে এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মাদকের বিস্তার রোধে ১১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রউকের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরপিএমপি কমিশনারের সঙ্গে এমপি বেলালের মতবিনিময় রংপুরের ১৬৪ পূজামণ্ডপে সিটি করপোরেশনের ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা অনুদান রংপুরে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মিঠাপুকুরে হোটেলে ডিবির অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে মাদকদ্রব্য ইস্কাপ সিরাপ ও ইয়াবা জব্দ বিশ্ব বাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
ত্রাণ মন্ত্রীর ডিও লেটারের বিরুদ্ধে এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক

ত্রাণ মন্ত্রীর ডিও লেটারের বিরুদ্ধে এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর|| বাতায়ন২৪ডটকম||

২০০ শয্যা বিশিষ্ট রংপুর বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ নির্মাণ প্রকল্প রংপুর বিভাগীয় নগরী থেকে লালমনিরহাটে স্থানান্তরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব ‍দুলুর ডিও লেটারের বিরুদ্ধে এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।

গেলো ৬ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদের প্যাডে লিখিতভাবে দেয়া ওই চিঠিটির রিসিভ কপি বৃহস্পতিবার বিকেলে হস্তগত হয় প্রতিবেদকের। এতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ উত্তরবঙ্গের ০৮টি জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠিত। উক্ত বিভাগের সকল জেলা থেকে প্রায় সমান দূরত্বে অবস্থিত রংপুর জেলা। এই জেলা থেকে রংপুর বিভাগের সকল জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও উন্নত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা প্রত্যাশী প্রায় সকল রোগী চিকিৎসা নেওয়ার জন্য রংপুর শহরে আসে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘০৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে রংপুর বিভাগের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রংপুর জেলার সদর উপজেলাধীন মহুনা মৌজায় স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চিঠিতে সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে সরকারিভাবে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে, উক্ত প্রকল্পটির স্থান পরিবর্তন করে লালমনিরহাট জেলায় স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। লালমনিরহাট জেলা রংপুর বিভাগের একপ্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ জনগণের যাতায়াতে ভীষণ অসুবিধার সৃষ্টি হবে এবং মাদকাসক্তি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে বিড়ম্বনার শিকার হবে।‘
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘০৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী কেন্দ্রটি রংপুর জেলায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি ‘।
প্রসঙ্গত: গত ২৩ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (স্মারক নং (৫৮.০২.০০০০.০০০.০৩.১৪.০০০১(খণ্ড-২).২৫-৩৩৩৪) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগীয় কেন্দ্রের জন্য রংপুর জেলা সদরের মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়।

এই চিঠির পর প্রকল্পটি লালমনিরহাটে স্থানান্তরের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে একটি ডিও দাখিল করেন। ওই ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখার সিনিয়র সহকারি সচিব জোসেফা ইয়াসমিন পরিকল্পনা বিভাগের ভৌত কাঠামো বিভাগে একটি (স্মারক নং ৪৪.০০.০০০.০৬৭.১৪.০০০২.২৪-১৪০) চিঠি দেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘০৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে রংপুর বিভাগের নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রংপুর জেলা সদর উপজেলাধীন মছুয়া মৌজার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এ লক্ষ্যে উক্ত মৌজায় বিভিন্ন খতিয়ানে ১০.০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিটি তিন ফসলি হওয়ায় অধিগ্রহণের বিষয়ে জমির মালিকগণ লিখিতভাবে আপত্তি দাখিল করেন। ফলে উক্ত জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, জনাব আসাদুল হাবিব দুলু, মাননীয় মন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় লালমনিরহাটে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ডিও পত্র দাখিল করেছেন। এতে লালমনিরহাট জেলা সদরের বড়বাড়ি ইউনিয়নের বৈরাগীকুমুর মৌজায় ৯দশমিক ২৯ একর এবং নওদাবস মৌজায় দশমিক ৭১ একর জমির প্রস্তাবনা দেয়া হয়। নির্ধারণ করে ডিপিপি সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে পূর্বানুমোদনের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, লালমনিরহাট জেলাধীন প্রস্তাবিত স্থানে উক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে প্রকল্প এলাকা পরিবর্তনের কারণে ডিপিপি সংশোধন করা প্রয়োজন হবে। ডিপিপিতে অনুমোদিত রংপুর জেলা সদরে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটি স্থাপনের পরিবর্তে লালমনিরহাট জেলায় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ডিওপত্র অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে পূর্বানুমতি প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ডিপিপি সংশোধনকালে বিষয়টি যথাযথভাবে ডিপিপিতে প্রতিফলন করা হবে ‘

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এই চিঠির প্রকাশ্যে আসলে গত ৬ অক্টোবর ত্রান মন্ত্রীর ডিও লেটারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা ডিও লেটার পাঠান রংপুর জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থাণীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। (স্মারক নং-৪৯.০০.০০০.০০১.২৫.২০২৬-৭৪৩) পাঠান।

ডিও লেটারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়—এই ৮টি জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে রংপুর বিভাগীয় শহরটি সকল জেলার মানুষের জন্য সমানভাবে ও তুলনামূলক সহজগম্য। লালমনিরহাট জেলাটি রংপুর বিভাগের এক প্রান্তে অবস্থিত। ফলে সেখানে বিভাগীয় কেন্দ্রটি স্থাপন করা হলে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও বা পঞ্চগড়ের মতো দূরবর্তী জেলার মাদকাসক্ত রোগী ও তাদের পরিবারকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণে অতিরিক্ত সময়, অর্থ ব্যয় ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে।

ডিও লেটারে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম আরও বলেন, ‘ রংপুরে ইতোমধ্যে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত সমীচীন। জনস্বার্থ, ভৌগোলিক সুবিধা ও অনুমোদিত ডিপিপি বিবেচনা করে কেন্দ্রটি রংপুর জেলার সদর উপজেলার মন্থনা মৌজাতেই বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে দুটি ডিও লেটারই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ত্রান মন্ত্রীর ডিও লেটারের বিরোধীতা করা হয়েছে। বিভাগীয় সদরের জন্য বরাদ্দকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে সীমান্তঘেঁষা জেলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় রংপুরবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এব্যাপারে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডিপিপিতে অনুমোদিত এই প্রকল্পটি রংপুর বিভাগীয় শহরেই হতে হবে। এজন্য আমি এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। আমাদের মাননীয় জেলা মন্ত্রীও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ত্রাণ মন্ত্রীর ডিও লেটারটি বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছেন। আশাকরি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি রংপুরে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিবেন।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com