স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর|বাতায়ন২৪ডটকম
নীলফামারীর ডোমার থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. ইয়ানুর রহমানকে (৪৫) রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৮ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইয়ানুর রহমান নীলফামারী জেলার ডোমার থানার হলহলিয়া মির্জাগঞ্জ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম ওরফে বুধার ছেলে। তিনি ডোমার থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে নিহত একরামুল হক (৬৫) এবং আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একরামুল হক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাইরে বের হন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়ির বাইরে অবস্থান করা আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে একরামুল হককে গলাকাটা অবস্থায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ মৌজার কেরানীপাড়া গ্রামের কুদ্দুস আলীর বসতবাড়ির দক্ষিণে কাঁচা রাস্তার একটি কালভার্টের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে একরামুল হকের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম বাদী হয়ে ১ সেপ্টেম্বর ডোমার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-১৩-এর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী এবং এসআরবি-১, সিপিসি-২, উত্তরা, ঢাকার একটি যৌথ দল উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৮ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি ইয়ানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী, জানান, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধ দমনে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এইচআরবি /বাতায়ন২৪ডটকম