দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। এরই মধ্যে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল কেনাবেচা শুরু হয়েছে। তবে, রংপুরের পশুর হাটগুলো তেমন জমে ওঠেনি এখনও। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার ক্রেতারা হাটে কম আসছেন বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।। রংপুর ।।বাতয়ন২৪ডটকম।। ২৫ মে ২০২৬
কেউ কেউ বলছেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারের লোকজন ও দালালের ফাঁদে নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। বিগত সময়ের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেও অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা হাটবিমুখ হচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে অবস্থাপন্নরা বিভিন্ন খামারে পছন্দের গরু বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
তবে ক্রেতাদের বড় অংশই হাটে হাটে ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছেন। যদিও হাটে মানুষের উপস্থিতির তুলনায় গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে কম। আর সাধারণ ক্রেতাসহ দূর থেকে আসা পাইকাররা হাটে ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে হাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে হাটের উদ্দেশ্যে আসা গরু-ছাগল আটকিয়ে দরদাম করে কেনার চেষ্টা করছেন।
প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, এ বছর রংপুরসহ বিভাগের আট জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন
প্রান্তে যাচ্ছে এসব পশু। এবার পশু বিক্রির মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে যোগ হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে সরব হাট, বিক্রি কম
রংপুর জেলার পশুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম তিস্তা নদী বেষ্টিত গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ক্রেতা-বিক্রেতার সরব হাকডাকে জমজমাট হয়ে উঠে এই হাট।
গত মঙ্গলবার বেতগাড়ি হাটে অন্যান্য বছরের তুলনায় গরুর আমদানি ছিল কম। তবে তুলনামূলক বেশি দাম চাওয়ার অভিযোগ মেলে ক্রেতাদের মুখে। বিগত বছরগুলোতে এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও এবারে তেমনটা চোখে পড়েনি। যদিও হাট ইজারাদারসহ বিক্রেতাদের দাবি, ঈদের আগে শেষ দু’দিনের হাটেই বাড়বে বেচা-কেনা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুর থেকেই বেতগাড়ি হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি, শংকরসহ বিদেশি জাতের পর্যাপ্ত গরু উঠেছে। বিক্রেতারা সারি সারি খুঁটিতে গরুগুলো বেঁধে রেখেছেন। সকালে বৃষ্টি কারণে কোরবানির পশু ও মানুষের চলাচলে কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে হাটের কিছু অংশ। জাত ও আকারভেদে সর্বনিম্ন ৬০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত গরুর দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা।
এ হাটে দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল, তোতাপুরীসহ বিভিন্ন জাতের ছাগলও উঠেছে। ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৩৪ হাজার পর্যন্ত দাম চাইছেন বিক্রেতারা। যদিও দামাদামির সুযোগ থাকায় ক্রেতারা হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন। এবার স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও পশু নিয়ে আসা হয়েছে হাটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এবার তুলনামূলক গরু-ছাগলের দাম কম। তবে হাটে আসা ক্রেতা ও পাইকারের উপস্থিতির ওপর দাম কম-বেশির বিষয়টি নির্ভর করছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, গত বছরে যে গরু ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় কেনা যেত, এবারে সেই গরু কিনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায়।
হাটে কথা হয় জহুরুল ইসলাম নামে এক বিক্রেতার সাথে। তিনি ঢাকা পোস্টকে জানান, হাটে হাটার মতো জায়গা নেই কিন্তু বিক্রি কম। মানুষ হুমড়ি খেয়ে গরু দেখছেন আর দাম শুনে চলে যাচ্ছে। বিক্রির জন্য আনা তার আট মণ ওজনের একটি বিদেশি জাতের গরুর দাম তিন লাখ টাকা হাঁকিয়েছেন তিনি।
একই হাটে মাঝারি সাইজের বেশ কয়েকটি দেশি গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন আব্দুল কাদের। নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আসা এই ব্যবসায়ী ঢাকা পোস্টকে জানান, গত বছর যেভাবে বিক্রি হয়েছে, এবার সেই তুলনায় কম বিক্রি। হাটে প্রচুর গরু আছে, ক্রেতাও আছে কিন্তু বিক্রি নেই। এ কারণে ডিসকাউন্ট দিয়ে ৪৮০ টাকা কেজি লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, এর আগে বেতগাড়ি হাটের ইজারায় সরকারি দর ৩ কোটি ৭০ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৯ টাকা। এবারে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার এ হাটে গরু উঠেছিল প্রায় ৫ হাজার। ছোট (৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা), বড় (এক থেকে দেড় লাখ টাকা) ও মাঝারি (৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা) মিলে ৭০০টি গরু বিক্রি হয়েছে।
হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি
এক লাখ ১০ হাজার টাকায় একটি মাঝারি সাইজের দেশি ষাঁড় কেনেন আব্দুস সোবহান। খলেয়া এলাকা আসা এই ব্যক্তি বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসলে হাটের ভিড়ে গরু কেনা দুষ্কর হয়ে পড়বে। তাই আগেভাগেই কিনলাম, যদিও গোখাদ্যের দামের অজুহাতে এবারে গরুর দামও কিছুটা বেশি।
এদিকে শুক্রবার (২২ মে) রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জ, পীরগাছার পাওটানা ও সদর উপজেলার পালিচড়া হাট ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। হাটের মাঠে ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট ভিড় চোখে পড়লেও গরু-ছাগল তেমন বিক্রি হয়নি।
নগরীর নিসবেতগঞ্জ হাট এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার এ হাটে শেষ কেনা-বেচা হবে। স্থানীয়রা এখনও হাটে ভিড়তে শুরু করেনি। যারা হাটে আসছেন তাদের অনেকেই দাম যাচাই করতে এসেছেন। বিক্রি যে একেবারে নেই সেটাও বলা যাচ্ছে না। ছুটির দিন শুক্রবার হিসেবে ভালো বিক্রি হয়েছে।
আগে কিনে রাখা-খাওয়ানোসহ ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় ক্রেতারা ঈদের আগের দিন গরু কেনেন। তাছাড়া বিশেষ করে অবস্থাপন্ন ক্রেতারা এখন হাটের চেয়ে খামারে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও জানান একই এলাকার ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেন।
নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আরও কিছু সময় রয়েছে, হাটগুলো ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছি। হাটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো। নিউ আদর্শপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবার গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। হাতে সময় থাকায় বিক্রেতারা দাম ধরে রেখেছেন। ঈদের দুই-তিন আগে দাম কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে পাওটানা হাটে কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা সহনীয় রয়েছে। বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন দামের পশু পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিস্তা নদী পেরিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে গরু কিনতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পাওটানা হাটে দাম একটু কম মনে হচ্ছে। হাটে গরুর সংখ্যাও বেশি। তাই পছন্দমতো গরু দেখার সুযোগ পাচ্ছি।
হাটে কড়াকড়ি নিরাপত্তা, বেশি হাসিল আদায়ের অভিযোগ
এদিকে হাটে অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু যাতে বিক্রি না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমও কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাল টাকা শনাক্তকরণ টিম, পুলিশের টহল ও স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে হাটজুড়ে। গ্রামের হাটগুলোতে চৌকিদার-দফাদারদেরও কাজ করতে দেখা গেছে।
সদর উপজেলার পালিচড়া হাট ইজারাদার রেজাউল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাটে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় নেই। পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। জাল নোট শনাক্তে মেশিনও রাখা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে হাটে কোরবানির পশু বেচা-কেনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবার হাটে ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে। দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিল (লেখার রশিদ) নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রেতাদের অভিযোগ থাকবে। অনেকেই অভিযোগ করে কিন্তু হাসিল বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সবকিছু রশিদে উল্লেখ থাকে। পালিচড়া হাটে গরু লেখা ৭০০ এবং চাঁদা ২০০ টাকা। আর ছাগলের জন্য ২৫০ টাকা লেখা ও চাঁদা ১০০ টাকা।
গরু কিনতে ঢাকা থেকে আসা পাইকার নিজাম উদ্দিন ও বাদশা মিয়া জানান, অন্যান্য বছরে কোরবানির ঈদের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে রংপুরের হাটগুলো থেকে গরু কিনে নিয়ে যেতো। এবারে সেই সংখ্যা একেবারেই কম।
এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, হাট ইজারাদারের লোকজন কর্তৃক হাসিল বা খাজনার নামে জোর করে বেশি টাকা আদায়, দালালদের উৎপাত ছাড়াও পরিবহন খরচ আগে চেয়ে বেশি হওয়ায় পাইকাররা আগ্রহ হারিয়েছেন। এ বছরও একই অভিযোগ সাথে রয়েছে দালালদের অসহনীয় উৎপাত।
বেতগাড়ি হাটে গরু কিনতে আসা চাকরিজীবী রুহুল আমিন বলেন, বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে একটি গরু কেনার জন্য হাটে এসেছি। কিন্তু দালালকে ডিঙ্গিয়ে হাটে গরু কেনার কোনো সুযোগ নেই। নিজেরা দরদাম করে গরু বের করলেও নানা কায়দায় দালালরা টাকা আদায় করেন।
হাটে দূরের পাইকার কম, বেড়েছে খামারমুখী ক্রেতা
রংপুর জেলায় পশুর হাটের মধ্যে লালবাগ, বুড়িরহাট, তারাগঞ্জ হাট, পাগলাপীর হাট, বড়াইবাড়ি হাট, চৌধুরানী হাট, দেউতি হাট, নজিরের হাট, পাওটানা হাট, কান্দির হাট, সৈয়দপুর হাট, মিঠাপুকুর বৈরাতি হাট, জায়গীর হাট, শঠিবাড়ি হাট, বালুয়া হাট, মাদারগঞ্জ হাট, ভেন্ডাবাড়ি হাট উল্লেখযোগ্য। রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৩০৩টি স্থায়ী হাট রয়েছে।
রংপুর শহরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী হাট লালবাগ। সপ্তাহে দু’দিন রোববার ও বুধবার এই হাট বসে। শহরের অন্যতম লালবাগ পশুরহাটে আগামীকাল রোববার থেকে জমাজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। গত বুধবার এ হাটে গরু কম উঠেছিল। হাতেগোনা কিছু গরু উঠলেও তেমন ক্রেতা ছিল না।
সিটি করপোরেশনের আওতাধীন লালবাগ হাটের ইজারার দায়িত্বে থাকা আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, হাটে গরুর আমদানি একেবারেই কম। এছাড়া ক্রেতারাও বেশিরভাগ খামারনির্ভর এবং সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। তবে রোববার থেকে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটবে।
তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে কোরবানি ঈদের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার গরুর হাটে ২৫ লাখেরও বেশি গরু বিক্রি হতো। এখানকার গরুর ৮০ ভাগ ক্রেতা ছিলেন উত্তরাঞ্চলের বাইরে থেকে আসা বৃহত্তর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল এলাকার গরু ব্যবসায়ী। ট্রাকে করে এগুলো নিয়ে যাওয়া হতো বাইরে। আর স্থানীয় পর্যায়ে গরু বিক্রি শুরু হতো ঈদের ঠিক সপ্তাহখানেক আগে থেকে। এবার পাইকারের উপস্থিতি অনেকটা কমে গেছে।
মাহিগঞ্জের দেওয়ানটুলি এলাকার জমজম ক্যাটল ফার্মে গত চার বছর ধরে ওজন দরে গরু বিক্রি হচ্ছে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনই ক্রেতারা এসে গরু দেখছেন, ওজন স্কেলে মেপে দাম নির্ধারণ করছেন এবং ঈদের আগে বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রেতাদের দাবি, ওজন দরে গরু কেনাবেচায় প্রতারণার আশঙ্কা কম থাকে। এতে বাজেট অনুযায়ী সুস্থ ও ভালো গরু কেনা সহজ হয়। তবে খামারকেন্দ্রিক বিক্রি বাড়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভাগে চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত সাড়ে ৫ লাখের বেশি পশু
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবার রংপুর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭টি। চাহিদার বিপরীতে পশু প্রস্তুত রয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪১০টি। বিভাগের আট জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২১ হাজার খামার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রংপুর জেলাতেই নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
সূত্র জানায়, এবারে জেলাভিত্তিক কোরবানির পশুর হিসাব রংপুরে প্রস্তুত পশু ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১, চাহিদা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৯, গাইবান্ধায় পশু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০, চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০, কুড়িগ্রামে পশু ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯, চাহিদা ২ লাখ ৬১ হাজার ২৪৬, নীলফামারীতে পশু ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০, চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬, লালমনিরহাটে পশু ২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২, চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪, দিনাজপুরে পশু ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩, চাহিদা ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২, ঠাকুরগাঁওয়ে পশু ৯৫ হাজার ৪৩৬, চাহিদা ৭৮ হাজার ৮৪৩ এবং পঞ্চগড়ে পশু ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩, চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫০ পশু।
কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় আড়াই লাখ খামারি সাড়ে ৮ লাখের মতো গরু প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া ২ লাখের ওপর গৃহস্ত প্রায় ১০ লাখ গরু-খাসি বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।
মাংসের কেজি ৭০০ টাকার নিচে বিক্রি হলে বাড়বে লোকসান
রংপুর ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পশুখাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রংপুর বিভাগে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেক খামার বন্ধের পথে। যারা আছেন তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এবার গরুর মাংসের কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার কমে বিক্রি করলে খামারিদের লোকসান হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন হাটে ভারতীয় গরু আসার আশঙ্কা থাকে। এবার যদিও সীমান্তে কড়াকড়ি অবস্থানের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর হাটগুলোতে যদি ব্যাপক হারে ভারতীয় গরু আসে তাহলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে গৃহস্তদের পালিতসহ বিভাগে আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। কোরবানির জন্য খামারগুলোতে ক্রেতারা বিভিন্ন দামের গরু আগাম বুকিং দিয়ে রাখছেন বলেও জানান তিনি।
কোরবানির পশু ঘিরে ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের সম্ভাবনা
খামারিরা বলছেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব পশু দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা হবে। এবার ভারত থেকে গরু না এলে তারা লাভবান হবেন। আর প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছেন, দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় লোকসানের সম্ভাবনা কম। বরং এবার বিভাগে কোরবানির পশু ঘিরে ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার ঢাকা পোস্টকে জানান, রংপুর অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি পশু। এসব পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে। এবার কোরবানির ঈদে পশু বিক্রির মাধ্যমে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে যোগ হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
বাতায়ন২৪ডটকম।। আ/আ/আ